১০ দিনে ছয় মরদেহ, উদ্বেগ জামালপুর জুড়ে

ছবি: আগামীর সময়
জামালপুরে ১০ দিনের ব্যবধানে পৃথক স্থান থেকে ছয়টি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৩ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জামালপুর শহর ও মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দুই গৃহবধূ, এক কলেজছাত্রী, এক কিশোরী, এক ভাঙারি ব্যবসায়ী ও এক নার্স। কয়েকটি মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত না হওয়ায় এসব ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
গত ২৩ আগস্ট জামালপুর শহরের শেখের ভিটা রেলক্রসিং এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ইশরাত জাহান মিমি (৩০) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটের ভেতরে তার দুই শিশুসন্তান আটকে ছিল। তারা জানালা দিয়ে পানি চেয়ে কান্নাকাটি করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে দরজা ভেঙে শিশু দুটিকে উদ্ধার করা হয়। একটি কক্ষ থেকে ইশরাতের মরদেহ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
২৭ আগস্ট মাদারগঞ্জ উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকার একটি দোকান থেকে সামিউল ইসলাম ওরফে ফকির আলী (৪৫) নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি দোকানেই থাকতেন। সারা দিন দোকান বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যরা তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তার মরদেহ দেখতে পান।
২৮ আগস্ট সকালে মাদারগঞ্জের চরপাকেরদহ ইউনিয়নের একটি সেচপাম্পের ঘর থেকে রুপসী আক্তার (১৬) নামের এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আগের রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন রুপসী।
একই দিন রাতে জামালপুর পৌর শহরের দক্ষিণ কাচারীপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান রিমার (২৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারিবারিক জটিলতা নিয়ে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তাধীন।
২৯ আগস্ট সকালে নান্দিনা রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে শারমিন আক্তার (২৬) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাটিও তদন্ত করছে পুলিশ।
সর্বশেষ ১ সেপ্টেম্বর দুপুরে জামালপুর পৌর শহরের চালাপাড়া এলাকার একটি বসতঘর থেকে রোকসানা আক্তার শীলা (৩৫) নামের এক নার্সের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ছয়টি ঘটনার মধ্যে চারজনই নারী। কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে ভাড়া বাসা ও আবাসিক এলাকায়। এতে নারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
শহরের বকুলতলা এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল গণি মোড়ল বলেন, 'অল্প কয়েকদিনের মধ্যে এতগুলো মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা সত্যিই উদ্বেগজনক। বিশেষ করে নারী ও তরুণীদের মৃত্যুর ঘটনাগুলো মানুষকে বেশি নাড়া দিয়েছে। আমরা চাই প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হোক এবং দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।'
জেলার সচেতন নাগরিক জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, 'দশ দিনে ছয়টি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে শহরের আবাসিক এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।'
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, 'প্রতিটি ঘটনার পরেই আমরা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে বিশেষজ্ঞদের মতামতসহ আদালতে তথ্য উপস্থাপন করি। এ ছাড়া সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনা করি।'
পুলিশ জানিয়েছে, ছয়টি ঘটনাই আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এসব মৃত্যুর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্ত শেষ হলে প্রতিটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।






