ভারী বৃষ্টিতে টুঙ্গিপাড়ার আগাম সবজি চাষে ক্ষতির শঙ্কা

ছবি: আগামীর সময়
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অতিবৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ সবজি খেতে পানি জমে গাছ ও চারা নষ্ট হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশের বাজারে আগাম সবজির সরবরাহ কমে দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
আগাম বাজার ধরার লক্ষ্যে উপজেলার জোয়ারিয়া, পাথারঘাটা, ডুমুরিয়া, তারাইল ও গোপালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে পটোল, বেগুন, শিম ও করলাসহ কয়েকটি সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে শসা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মরিচ, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি বাজারজাত হওয়ার কথা ছিল। তবে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে সেই সম্ভাবনা।
স্থানীয় কৃষক অমল বৈরাগী জানিয়েছেন, দিন-রাত পরিশ্রম করে জমি থেকে পানি সরানোর চেষ্টা করলেও টানা বৃষ্টিতে সব ফসল রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক চারা নষ্ট হয়ে গেছে। উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, এখন ভালো ফলন না হলে লোকসান গুনতে হবে।
কৃষক মো. সোহেল শেখের জানান, আগাম সবজি চাষে খরচ বেশি। ভালো দামের আশায় চাষ করেছিলেন। কিন্তু জমিতে পানি জমে থাকায় গাছ হলুদ হয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সেলিম মোল্লা জানিয়েছেন, নিচু এলাকার অনেক জমিতে এখনো পানি জমে রয়েছে। দ্রুত পানি নেমে না গেলে কৃষকদের ক্ষতি আরও বাড়বে। তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেন।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে টুঙ্গিপাড়ায় প্রায় ৭ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে অন্তত ১২ ধরনের আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ হয়েছে। এখন কৃষকদের প্রত্যাশা, আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক হবে, জমির পানি নেমে যাবে এবং সারা মৌসুমের পরিশ্রম রক্ষা পাবে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দেশের সবজির চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ টুঙ্গিপাড়ার কৃষকরা সরবরাহ করেন। ফলে এখানকার উৎপাদন কমে গেলে জাতীয় পর্যায়ে আগাম সবজির সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে এবং বাজারে দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাকিবুল ইসলাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, অতিবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় সবজি খেতে আংশিক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ক্ষতি অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, পানি নিষ্কাশন, রোগবালাই দমন এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে পুনরায় চারা রোপণের বিষয়ে কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি সহায়তার বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।





