পার্বতীপুরে আবাসনের প্রবেশমুখে ১৬ দোকান, বিপাকে বাসিন্দারা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ১ নম্বর বড় রামচন্দ্রপুর আবাসন প্রকল্পের প্রবেশমুখে একের পর এক দোকানপাট গড়ে ওঠায় বিপাকে পড়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, আবাসনের প্রবেশপথ, চলাচলের জায়গা, কাপড় শুকানোর স্থান ও শিশুদের খেলাধুলার জন্য নির্ধারিত খোলা জায়গায় দোকানপাট স্থাপন করায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে আবাসন এলাকার পরিবেশ ও পরিকল্পিতভাবে বসবাসের সুযোগও হুমকির মুখে পড়েছে।
আবাসনের বাসিন্দা সাফিউল ইসলাম জানান, ২০১২ সালে তৎকালীন সরকার বড় রামচন্দ্রপুর গ্রামে প্রায় সাড়ে তিন একর সরকারি জমিতে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসনের জন্য ৮০টি বাড়ি নির্মাণ করে দেয়। আবাসনের নারী, পুরুষ ও শিশুদের স্বাভাবিক চলাচল, খেলাধুলা এবং অন্যান্য প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে চারপাশে আরও প্রায় চার একর জমি ফাঁকা রাখা হয়েছিল।
সাফিউল ইসলামের অভিযোগ, আবাসন কমিটির সভাপতি মোমিনুল ইসলাম স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রভাব খাটিয়ে গত কয়েক বছরে আবাসনের প্রবেশমুখ ও বাসিন্দাদের ব্যবহৃত খোলা জায়গায় বহিরাগতদের দোকানপাট স্থাপনে সহযোগিতা করেছেন। এমনকি তিনি নিজেও সেখানে একটি পাকা দোকানঘর নির্মাণ করে পরে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেন। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১৫ থেকে ১৬টি দোকান গড়ে উঠেছে। এসব দোকানে নিয়মিত ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আবাসন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত ওই জায়গাকে পরিকল্পিতভাবে উপজেলা পরিষদের হাটবাজারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে আবাসনের বাসিন্দাদের ব্যবহারযোগ্য খোলা জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিন আবাসন এলাকায় গেলে বাসিন্দারা তাদের ক্ষোভ ও অসন্তোষের কথা জানান। তাদের ভাষ্য, সরকার তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই দেওয়ার পাশাপাশি সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় খোলা জায়গাও রেখেছিল। কিন্তু দোকানপাট স্থাপন এবং হাটবাজারের অনুমতির কারণে সেই পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের চলাচল এবং শিশুদের খেলাধুলার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে মোস্তফাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মমতাজ আলী বলেন, উপজেলা প্রশাসনের উচিত সরকারি হাটবাজারের তালিকা থেকে ওই স্থানটি বাদ দেওয়া এবং আবাসন প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত জায়গা বাসিন্দাদের ব্যবহারের উপযোগী করে রাখা।
আবাসন কমিটির সভাপতি মোমিনুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দোকানপাট উচ্ছেদের জন্য দেওয়া লিখিত অভিযোগে তিনিও স্বাক্ষর করেছেন। তৎকালীন ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানের অনুরোধে সেখানে সাময়িকভাবে কিছু দোকানপাট বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দোকানিরা নিজ উদ্যোগে দোকানপাট সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও তারা তা করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত আমান আজিজ বলেন, এ বিষয়ে তার দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। তার পূর্ববর্তী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবাসনসংলগ্ন ফাঁকা খাসজমিতে এক বছরের জন্য হাটবাজার ইজারা দিয়েছিলেন। বিষয়টি তদন্ত করে আবাসনের বাসিন্দাদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



