চিকিৎসার খোঁজে ক্লিনিকে আহত হনুমান, মাথা নিচু করে বসে ছিল বেঞ্চে

মাথা নিচু করে বেঞ্চে বসে আছে আহত হনুমান— সংগৃহীত ছবি
রাজবাড়ীর পাংশায় চিকিৎসার আশায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে হাজির হয়েছে আহত হনুমান। ঘটনাটি দেখে বিস্মিত রোগী, স্বজন ও ক্লিনিকের কর্মীরা।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাংশা পৌর শহরের হামিদা মেডিকেল সেন্টারে এসে সাধারণ রোগীদের জন্য রাখা বেঞ্চে মাথা নিচু করে বসে ছিল হনুমানটি।
অসুস্থতার কারণে কখনো বেঞ্চে বসে, আবার কখনো শুয়ে পড়তে দেখা যায় তাকে। এ সময় উপস্থিত অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি তোলেন, কেউ কেউ কলা খেতে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মোস্তফা কামাল জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
হামিদা মেডিকেল সেন্টারের মালিক আরিফুল ইসলাম বলেছেন, ‘দুই দিন আগেও হনুমানটি ক্লিনিকে এসেছিল। তখন হাত তুলে কাঁধের আঘাতের স্থান দেখিয়েছিল, যেখানে আগে সেলাই দেওয়া ছিল।’
তার ভাষ্য, ‘পাংশার বাহাদুরপুর এলাকায় এক তাল বিক্রেতার হামলায় প্রাণীটি আহত হয়েছিল। মঙ্গলবার সকালেও একবার ক্লিনিকে এসে কিছুক্ষণ অবস্থান করে চলে যায়, পরে আবার ফিরে আসে।’
তিনি আরও জানান, ক্লিনিকে প্রাণিচিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় সরাসরি চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক বলেছেন, ‘আগের সেলাইয়ের স্থানে সংক্রমণ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হনুমানটিকে জেলা শহরে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে তাকে ব্যথানাশক ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে।’
পাংশা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পৃথ্বীজ কুমার দাস জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হনুমানটিকে বন বিভাগ উদ্ধার করে নিয়ে এলে চিকিৎসা ও সেলাই করা হয়। পরে তাকে অবমুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষতস্থানে সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় সে আবার মানুষের কাছে চলে আসে। খবর পেয়ে ভেটেরিনারি সার্জন ঘটনাস্থলে গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছেন।





