অভয়নগরে অবৈধ চুন কারখানায় বাড়ছে দূষণ

ছবি: আগামীর সময়
যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে শামুক ও ঝিনুকের খোলস পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে চুন। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও বায়ুদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার প্রেমবাগ গ্রামে গড়ে উঠেছে ৪ থেকে ৫টি চুন তৈরির কারখানা। বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা শামুক ও ঝিনুকের খোলস কাঠ জ্বালিয়ে চুল্লিতে পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে চুন। স্থানীয়দের দাবি, ২০০৭ সাল থেকে কার্যক্রম চলছে এসব কারখানার।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন রাতেই চুল্লিতে পোড়ানো হয় শামুকের খোলস। বড় বৈদ্যুতিক ফ্যান দিয়ে আগুন জ্বালানোর সময় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে ধোঁয়ায়। তীব্র দুর্গন্ধে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, জ্বালা-পোড়া করে চোখও। এতে বাড়ছে শিশু ও বয়স্কদের কাশি। চুল্লির আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকার মানুষের কঠিন হয়ে পড়ে রাতে ঘুমানোও।
তাদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে চুন তৈরিতে। এতে নির্বিচারে কাটা হচ্ছে গাছ। পাশাপাশি নদীর পাড় ও বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করে পোড়ানো হচ্ছে মৃত ঝিনুকও। যা জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কারখানার মালিক রাজা মিয়া জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে তার কাছে। তবে কোনো ছাড়পত্র নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের।
তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে চুন উৎপাদন করলেও আগে কোনো সমস্যায় পড়েননি। একাধিকবার পরিবেশ ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করলেও তা পাননি।
তবে প্রেমবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জসিমউদ্দিন জানিয়েছেন, চুন কারখানার জন্য কোনো অনুমোদন দেননি তিনি। এ বিষয়ে তার জানা নেই।
খুলনা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সরদার শরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভয়নগরে কাঠ পুড়িয়ে চুন তৈরির জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি কোনো কারখানাকে। কেউ এ কাজ করলে তা সম্পূর্ণ বেআইনি। কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারেরও অনুমতি নেই। এর আগে কয়েকবার ভেঙে দেওয়া হয়েছিল চুল্লি।
দ্রুত এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।






