মাগুরায় যুবদল নেতার মৃত্যু
ময়নাতদন্তে মাথায় মিলেছে গুলি, ‘টার্গেট কিলিং’ বলে সন্দেহ

শাকের হোসেন
ময়নাতদন্তের সময় মাগুরা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেনের মাথায় একটি গুলি পাওয়া গেছে। ফলে এই ধারণা জোরালো হয়েছে যে তিনি হত্যাকাণ্ডের শিকার। এটি ‘টার্গেট কিলিং’ বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
আজ বুধবার ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টার থেকে শাকেরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি পরিবহন কোম্পানিটির কাউন্টারে মাস্টার হিসেবে কাজ করতেন। শাকের মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী এলাকার মৃত কুতুব উদ্দিনের ছেলে।
মৃত শাকেরকে বাড়িতে নেওয়ার পর গোসলের সময় তার মাথায় ছিদ্র দেখেন পরিবারের সদস্যরা। এরপর মরদেহ নেওয়া হয় মাগুরা সদর হাসপাতালে। সেখানে মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়।
মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তে শাকেরের মাথায় একটি গুলি পাওয়া গেছে বলে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তারা জানতে পেরেছেন।
গুলিটি পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে, আসলে কী ঘটেছে।
পাশাপাশি ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে পুলিশ। গুলি পরীক্ষা ও অন্য আলামত বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
ঘটনাটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বা টার্গেট কিলিং হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান।
শাকেরকে পরিকল্পিতভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে তার পরিবারও দাবি করছে। তবে কারা, কেন হত্যা করেছে, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট করে কিছু বলেনি।
যুবদল নেতা শাকেরের বিরুদ্ধে ১০টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সেগুলো রাজনৈতিক কারণে বলে তার পরিবারের দাবি।
শাকেরের মরদেহ যেখানে পাওয়া গিয়েছিল, সেই রয়েল পরিবহনের কাউন্টারের পাশেই গোল্ডেন লাইন পরিবহনের কাউন্টার।
সেই কর্মরত এক ব্যক্তি জানান, রয়েল পরিবহনের কাউন্টার থেকে একটি শব্দ শোনার পর দুজনকে মোটরসাইকেলে দ্রুত চলে যেতে দেখেছিলেন। পরে গিয়ে দেখতে পান, শাকের কাউন্টারের ভেতরে পড়ে আছেন।
রয়েল পরিবহনের কাউন্টারের টেবিলে রক্তের দাগ দেখতে পাওয়ার কথাও বলেন তিনি।
শাকেরের স্বজন খবির হোসেন বলেছেন, ‘ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কাউন্টারে অবস্থানকালে শাকেরের কাছে দুজন ব্যক্তি আসেন। এরপর একটি শব্দ শোনা যায়। পরে যাত্রীরা তাকে কাউন্টারের টেবিলে পড়ে থাকতে দেখেন।’
অচেতন শাকেরকে প্রথমে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে মরদেহ নেওয়া হয় বাড়িতে।
মাগুরা সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন বলেছেন, ‘গোসল করানোর সময় তার মাথার পেছনে গুলির মতো একটি ক্ষত দেখতে পাই।’
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাইনুল হাসান জানান, সকাল ৮টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি শাকেরকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। তার মাথার পেছনে ছিদ্রের চিহ্ন পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।




