২০০ প্লট প্রস্তুত অপেক্ষা বিনিয়োগের

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
একসময় যেখানে মাঠজুড়ে ফলত ফসল, সেখানে এখন গড়ে উঠছে শিল্পনগর। যশোরের অভয়নগরে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) জন্য তৈরি হচ্ছে সড়ক, ড্রেন, কারখানা ও আবাসিক ভবন। এরই মধ্যে প্রস্তুত হয়েছে ২০০টি শিল্পপ্লট। এসব প্লটে কারখানা গড়ে উঠলে বদলে যেতে পারে এলাকার অর্থনীতি, তৈরি হতে পারে বিপুল কর্মসংস্থান। এখন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে বাস্তব বিনিয়োগে রূপ দেওয়ার অপেক্ষা।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০৩ একর জমিতে গড়ে উঠছে যশোর ইপিজেড। অভয়নগরের প্রেমবাগ ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া, মহাকাল, প্রেমবাগ, বালিয়াডাঙ্গা, আমডাঙ্গা, আরাজি বাহিরঘাট, মাগুরা ও রাজাপুর মৌজা নিয়ে প্রকল্প এলাকা। ইপিজেডে ৪১৫টি শিল্পপ্লট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পায়। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৭৮ কোটি ২৯ লাখ টাকা। পরের বছরের ২৩ মার্চ অধিগ্রহণ করা জমি বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) কাছে হস্তান্তর করে জেলা প্রশাসন।
প্রকল্প এলাকায় ভূমি উন্নয়নকাজের প্রায় ৫৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। আরসিসি ড্রেন নির্মাণের কাজ এগিয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ। এর পাশাপাশি সড়ক, কালভার্ট, সীমানাপ্রাচীর ও ফুটপাত নির্মাণ চলছে। অফিস ভবনের পাশাপাশি চারটি ছয়তলা কারখানা ভবন, তিনটি ১০ তলা আবাসিক ভবন, দুটি ছয়তলা ডরমিটরি ও নিরাপত্তা ব্যারাক নির্মাণের কাজও চলমান।
শিল্পাঞ্চলটি চালুর জন্য বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামোও গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই মধ্যে চালু হয়েছে ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইন ও সাবস্টেশন। ৩৩/১১ কেভি জিআইএস সাবস্টেশন নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। গ্যাস নেটওয়ার্ক স্থাপনে সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির মাধ্যমে দরপত্র প্রক্রিয়া চলছে। পানি সরবরাহ ও সৌর সড়কবাতি স্থাপনের জন্যও দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এরই মধ্যে দুটি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।
বেপজার প্রকল্প পরিচালক ইউছুপ পাশার ভাষ্য, অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য শিল্পপ্লট প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে কারখানা স্থাপনের কাজ দ্রুত শুরু করা যায়। যশোর ইপিজেডে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্য রয়েছে। পুরোপুরি চালু হলে সরাসরি প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার এবং পরোক্ষভাবে আরও প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
বেপজার তরফ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে যশোর ইপিজেডে বিনিয়োগের আগ্রহ পাওয়া যাচ্ছে। শিল্পপ্লট প্রস্তুত হওয়ায় সেই আগ্রহকে বিনিয়োগে রূপ দেওয়ার সুযোগও তৈরি হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি। পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হওয়ায় নতুন শিল্পাঞ্চলের জন্য তা বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে।
তবে অবকাঠামো নির্মাণের কাজ এগোলেও পুরো প্রকল্প শেষ হতে আরও সময় লাগতে পারে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাবও বিবেচনাধীন।
যশোর ইপিজেডকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের বড় প্রত্যাশা কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি নিয়ে। শিল্পকারখানা চালু হলে সরাসরি চাকরির পাশাপাশি পরিবহন, আবাসন, খাবারের ব্যবসা, দোকানপাট ও বিভিন্ন সেবা খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রেমবাগ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম সিরাজুল ইসলামের মতে, প্রকল্পের জন্য যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, তাদের পাওনা অর্থ ও পুনর্বাসনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। শিল্পায়নের সুফল যেন জমিদাতা ও আশপাশের সাধারণ মানুষও পান, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দিন দিপু বললেন, ইপিজেডের কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে। প্লট নেওয়ার জন্য বিদেশি কোম্পানিও এসে দেখে গেছে। আশা করি, ইপিজেড পুরোপুরি চালু হলে এলাকার বেকারত্ব দূর হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




