কীর্তিতে অম্লান ১৪৭ বছর বয়সী জোলাই হুজুরের ইন্তেকাল
- জানাজায় লাখো মানুষের ঢল, জীবদ্দশায় সৃষ্টি করেছেন দেড় শতাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

ছবি: আগামীর সময়
বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ, বহু দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং সর্বজনশ্রদ্ধেয় বুজুর্গ আলেম আলহাজ মাওলানা আব্দুর রহমান দরবেশ (রহ.), যিনি ‘জোলাই হুজুর’ নামে সুপরিচিত ছিলেন, ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শুয়াগাজী টি.এ. হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবল বৃষ্টিপাত উপেক্ষা করে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আলেম-উলামা, ছাত্র, ভক্ত-অনুরাগী এবং সাধারণ মানুষের ঢলে জানাজার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাওলানা আব্দুর রহমান দরবেশ নোয়াখালী সদর উপজেলার মহব্বতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল মৌলভী ইদ্রিস চৌধুরী। দেশ বিভাগের আগে তিনি ভারতের কাঁঠালিয়া এলাকায় চলে যান। পরে ১৯৫৮ সালে একটি মুসলমানি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার জোলাই গ্রামে এসে সেখানেই জোলাই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে এই প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই তার দ্বীনি খেদমতের ব্যাপক বিস্তার ঘটে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জীবদ্দশায় তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন এলাকায় দেড় শতাধিক মাদ্রাসা, মসজিদ, নূরানি মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৩৫টি সিনিয়র মাদ্রাসা রয়েছে। কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, সিলেট, বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি ভারতের কাঁঠালিয়া এলাকাতেও তার প্রতিষ্ঠিত একাধিক দ্বীনি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার নাতি মো. ইব্রাহিম জানান, মানুষের দান-অনুদানের অর্থেই এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে।
মাওলানা আব্দুর রহমান দরবেশের ছেলে নোয়াখালী সদর মডেল মসজিদের ইমাম মুফতি গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন, তার পিতা শতবর্ষী ছিলেন। তবে সুনির্দিষ্ট জন্মতারিখ বা সরকারি কোনো নথি না থাকায় প্রকৃত বয়স নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, তিনি জীবদ্দশায় চারটি বিয়ে করেন। তার ১২ ছেলে ও ৭ মেয়ের মধ্যে বর্তমানে ৯ ছেলে ও ৭ মেয়ে জীবিত রয়েছেন। স্ত্রীদের মধ্যে দুজন বেঁচে আছেন। নাতি-নাতনিসহ তাঁর পরিবারের সদস্যসংখ্যা বর্তমানে প্রায় ২৭২ জন।
জোলাই মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ শফিউল্লাহ রহমানী বলেছেন, জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার ও ইসলামের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। পাশাপাশি গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের সহযোগিতায়ও তিনি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক।
জানাজায় কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মনিরুল হক চৌধুরী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম-উলামা, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সর্বস্তরের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।
মরহুমের ছেলে মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান জানাজার নামাজে ইমামতি করেছেন। পরে তার পূর্বের ইচ্ছা অনুযায়ী কুমিল্লার জোলাই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে নির্ধারিত কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।




