অভিযোগ তদন্তে স্কুলে কর্মকর্তা, সামনেই দুই পক্ষের সংঘর্ষ

স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে যাওয়া কর্মকর্তার সামনে হট্টগোল। ছবি: আগামীর সময়
পিরোজপুরের কাউখালীতে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে স্কুলে যান উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তার সামনেই সংঘর্ষে জড়ায় দুইপক্ষ। ঘটনাটি উপজেলায় চিরাপাড়া-পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের ৩৫ নং কেশরতা সুজাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারা পারভীনের বিরুদ্ধে ছিল অনিয়মের কিছু অভিযোগ। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সেসব তদন্তে যান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহেদুল রহমান। তার উপস্থিতিতেই সংঘর্ষে জড়ায় প্রধান শিক্ষক ও অভিযোগকারীদের লোকজন।
অভিযোগকারীদের কথা, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অভিভাবকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন প্রধান শিক্ষক। সরকারি বিধিমালা অনুসরণ না করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন করেছেন তিনি। নিজস্ব লোকজনের মধ্যে বিতরণ করেছেন কমিটির সদস্যপদের ফরম।
বিদ্যালয়ের অভিভাবক খোকন হোসেন, মিন্টু তালুকদার, এমদাদুল হক খানসহ একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি এই অভিযোগ করেন।
এসব নাকচ করে প্রধান শিক্ষক হোসনেয়ারা পারভীন বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
সেখানে আজ তদন্তে যান উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। এ সময় প্রধান শিক্ষকের সমর্থক অভিভাবক ও অভিযোগকারী অভিভাবকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার স্বার্থে তদন্ত শেষ না করেই চলে যান সজল কান্তি সিকদার।
‘দুই পক্ষের সংঘর্ষের কারণে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে উপযুক্ত পরিবেশে পুনরায় তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে’- বললেন সজল কান্তি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহেদুল রহমান বলেছেন, ‘অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলাকালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’







