জমি বিক্রির নামে প্রবাসীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

ছবি: আগামীর সময়
নোয়াখালীর হাতিয়ায় জমি বিক্রির নামে এক প্রবাসীর কাছ থেকে ২১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগ উঠেছে চরইশ্বর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদার (সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা) আবদুল হান্নানের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে জমির রেজিস্ট্রি বা টাকা কোনোটিই ফেরত না পেয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. অলি উল্যাহ। সম্প্রতি এই প্রতারণার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ২০১৫ সালে হাতিয়া উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চরচেঙ্গার চর মৌজায় বুতিগো দোকানের পূর্ব পাশে অবস্থিত ‘দেড় কানি (২ একর ৪০ শতাংশ)’ জমি বিক্রির জন্য অলি উল্যাহর সঙ্গে চুক্তি করেন জমির মালিক আবদুল হান্নান। মোট ২১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করে জমিটি কেনার জন্য লিখিত ও মৌখিকভাবে উভয় পক্ষ চূড়ান্ত চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী অলি উল্যাহ তিন ধাপে নগদ ১২ লাখ টাকা আবদুল হান্নানের হাতে তুলে দেন এবং বাকি টাকা জমি রেজিস্ট্রি দেওয়ার সময় পরিশোধ করার কথা স্ট্যাম্পে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও জমির রেজিস্ট্রি না বুঝিয়ে দিয়ে উল্টো মোটা অঙ্কের বিনিময়ে অন্য এক চাষির কাছে জমিটি বন্ধক দেন অভিযুক্ত হান্নান। ফলে জমির দখল বা মালিকানা কোনোটিই বুঝে পাননি ওই প্রবাসী।
টাকা লেনদেনের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী আহম্মদ উল্লাহ ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানান, তাদের সামনেই এই বিশাল অঙ্কের টাকা লেনদেন হয়েছিল। দীর্ঘ ১২ বছরেও ক্রেতাকে জমি বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো অন্যকে চাষ করতে দেওয়া পুরোপুরি অন্যায়। স্থানীয় সমাজসেবক সাহাব উদ্দিনও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল হান্নান নিজের দোষ কিছুটা স্বীকার করে বললেন, জমির কাগজপত্রে কিছু আইনি জটিলতা থাকায় তিনি সময়মতো রেজিস্ট্রি দিতে পারেননি। তবে শেষ পর্যন্ত জমি রেজিস্ট্রি দিতে না পারলে ক্রেতার টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।




