ভবদহ আন্দোলনের অগ্রদূত রণজিৎ বাওয়ালী আর নেই

রণজিৎ বাওয়ালী
যশোর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন আন্দোলনের অগ্রদূত, ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক রণজিৎ বাওয়ালী মারা গেছেন।
আজ বুধবার দুপুরে অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা রাজনীতিক ইকবাল কবির জাহিদ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তার জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জলাবদ্ধতা দূর করার দাবি ও অধিকার আদায়ে সোচ্চার ছিলেন রণজিৎ বাওয়ালী। নদী খনন ও তদারকিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি ও সেনা তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমে তিনি স্থানীয় জনগণের পক্ষে জোরালো ভূমিকা পালন করেছেন। পানিবন্দী মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি ছিলেন প্রাণপুরুষ।
১৯৪৩ সালের ২ মার্চ যশোরের অভয়নগর উপজেলার ডুমুরতলা গ্রামের এক গরিব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা আশুতোষ বাওয়ালী ও মা রঙ্গোবালা বাওয়ালী। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন স্বভাবকবি ও লোকসংস্কৃতির ধারকও ছিলেন। তার জীবন, সামাজিক আন্দোলন ও গান নিয়ে লেখক লিঠু মণ্ডল ‘কৃষ্টির ভূমিপুত্র রণজিৎ বাওয়ালী : জীবন ও গান’ শিরোনামে একটি জীবনীগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। কলি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এই বইটিতে তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের নানা অধ্যায় ও সৃষ্টির বিবরণ রয়েছে। সমাজ ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি সমগীত সম্মাননা ২০২৩ এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি যশোর পুরস্কার লাভ করেন।
মৃত্যুর পর বুধবার সন্ধ্যায় অভয়নগর মহাশ্মশানে তার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, যশোর জেলা কমিটি, অভয়নগর উপজেলা কমিটি এবং ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ তার প্রতি লাল সালাম জানায়। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার, স্বজন, সহযোদ্ধা ও অসংখ্য আন্দোলনসঙ্গী রেখে গেছেন।
এর আগে গত পহেলা জুলাই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকের পরামর্শে গত ১৫ জুলাই থেকে বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।






