এক দিনের ছুটি নিয়ে অফিসে নেই ১০ বছর

ছুটি এক দিনের। অনুপস্থিত ১০ বছর। এমন কাণ্ড দুজন চিকিৎসকের। এটা শুধু বিস্ময়করই নয়, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার গভীর সংকটকেও সামনে নিয়ে আসে। দায়িত্বশীল পেশায় থেকে দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকা যেমন গুরুতর অনিয়ম, তেমনি এটি প্রশাসনিক নজরদারির বড় ব্যর্থতার ইঙ্গিত।
চিকিৎসক দুজন হলেন— লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থো.) আবুল কাশেম মহিউদ্দিন ও উপজেলার সাইচা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার কাজী সামসুদ্দোহা।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম।
২০১৫ সালের ১৩ জুলাই থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থো.) আবুল কাশেম মহিউদ্দিন এবং একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সাইচা উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার কাজী সামসুদ্দোহা অনুপস্থিত। ওই সময় থেকে কোনো বেতন-ভাতাও তোলেননি তারা। কর্মস্থলে যোগ দিতে একাধিকবার চিঠি দিলেও তারা আসেননি। এদিকে পদ দুটি দীর্ঘ ১০ বছরেও শূন্য ঘোষণা করা হয়নি।
২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল অর্থোপেডিক চিকিৎসক হিসেবে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন আবুল কাশেম মহিউদ্দিন। ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর সাইচা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দেন কাজী সামসুদ্দোহা। তারা পারিবারিক কারণ দেখিয়ে এক দিনের ছুটি নেন। এরপর কেটে গেছে ১০ বছর। তারা আর ফেরেননি কর্মস্থলে। ধারণা, তারা দুজনই দেশের বাইরে।
এ দুই চিকিৎসকের স্থায়ী ঠিকানায় একাধিকবার চিঠি পাঠিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সব চিঠিই ফেরত এসেছে প্রাপক না পেয়ে।
প্রতি মাসের ৫-৬ তারিখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল পরিস্থিতির তালিকা করে পাঠানো হয় লক্ষ্মীপুর সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। ওই প্রতিবেদনে প্রতি মাসে দুজন চিকিৎসক অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি জানানো হয়। তবুও দীর্ঘ ১০ বছরে গুরুত্বপূর্ণ পদ দুটিতে নতুন করে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি রায়পুর উপজেলা শাখার সভাপতি সাব্বির আলম মিয়াজীর ভাষ্য, ‘রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেসব চিকিৎসক আইন ভঙ্গ করে অনুপস্থিত। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ১০ বছরে অনেক ডাক্তার এখানে পদায়ন করা যেত। বিষয়টি দুঃখজনক।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. বাহারুল আলম বলেছেন, ‘কাজী সামসুদ্দোহা ও আবুল কাশেম মহিউদ্দিনের অনুপস্থিতির বিষয়টি প্রতি মাসে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের পদ শূন্য না হওয়ায় নতুন কাউকে পদায়ন করা হয়নি। কর্মস্থলে ফিরতে একাধিকবার তাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কিন্তু খোঁজ নেই। হাসপাতালে মাত্র ২১ জন চিকিৎসক দিয়ে সেবা দেওয়া অনেক কষ্ট।’



