রাণীশংকৈল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের খাবার সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাবার সরবরাহের ঠিকাদারি প্রায় ১৭ বছর ধরে এক আওয়ামী লীগ নেতার নিয়ন্ত্রণে থাকার ওঠেছে অভিযোগ। অভিযুক্ত হেদায়তুল্লাহ হোসেনগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান।
স্থানীয় সূত্র ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে দরপত্রে অংশ নিয়ে কার্যত খাবার সরবরাহের কাজ নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন হেদায়তুল্লাহ। প্রভাব খাটিয়ে ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারি ধরে রেখেছেন তিনি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবছর দরপত্র আহ্বান করা হলেও মামলা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে। এর সুযোগে আগের ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন হেদায়তুল্লা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের ও পরিমাণে কম খাবার সরবরাহের বিষয়েও অভিযোগ ওঠেছে একাধিকবার। কয়েক মাস আগে দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযান চালিয়ে এসব অভিযোগের সত্যতা পায় বলেও দাবি করেন তারা। তবে এ ঘটনায় নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলছিলেন, প্রায় দুই বছর আগে নিয়ম মেনে দরপত্র আহ্বান করা হলে হেদায়তুল্লাহ কাজ পাননি। পরে তার মেয়ের জামাই আব্দুল মান্নানকে দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করানো হয় মামলা। সেই মামলার সুযোগ নিয়ে এখনো আগের ঠিকাদারের নামে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে কাজ।
তার দাবি, খাবার সরবরাহে অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধনও করেছে এলাকাবাসী। প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে বারবার একই পক্ষকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে হেদায়তুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে দীর্ঘদিনের ঠিকাদার হিসেবে দেন পরিচয়। তবে বিস্তারিত কিছু না বলে ফোন দেন কেটে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে দায়িত্বে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং তৎকালীন দরপত্র কমিটির সভাপতি ডা. আব্দুস সামাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মামলার কারণে চূড়ান্ত দরদাতার নাম পাঠানো হয়নি অনুমোদনের জন্য। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে আদালতের রায়ের ওপর।
বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল আহামেদ বলছিলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয় দরপত্র প্রক্রিয়া। তিনি যোগদানের পর জানতে পেরেছেন, মামলা জটিলতায় আটকে আছে প্রক্রিয়াটি। দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে জেলায়।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনিছুর রহমান জানালেন, গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বিষয়টি। মামলা চলমান থাকায় দ্রুত নেওয়া হয়েছে নিষ্পত্তির উদ্যোগ।




