জীবননগর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে ভোগান্তি, বিকল এক্স-রে মেশিন

ছবি: আগামীর সময়
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, বিকল এক্স-রে মেশিন ও জনবল ঘাটতিতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা।
কাগজে-কলমে চিকিৎসক থাকলেও কর্মস্থলে নেই গুরুত্বপূর্ণ দুই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ফলে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা না পেয়ে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন জীবননগর ও পাশের মহেশপুর উপজেলার হাজারো রোগী।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৩১টি। এর মধ্যে বর্তমানে ১৩টি পদ শূন্য। সচল পদগুলোর মধ্যেও জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (মেডিসিন) পদে কর্মরত দুই চিকিৎসক প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন অন্য প্রতিষ্ঠানে। ফলে কার্যত বন্ধ রয়েছে এ দুই বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবা।
হাসপাতালে শুধু চিকিৎসকই নয়, তীব্র সংকট রয়েছে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরও। পরিচ্ছন্নতা ও রোগীসেবার জন্য অনুমোদিত ২১টি পদের মধ্যে আটজন কর্মচারী প্রেষণে অন্য হাসপাতালে কর্মরত। এতে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম।
চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ, সামান্য জটিলতা থাকলেও চিকিৎসকের অভাবে তাদের রেফার করা হচ্ছে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। আবার শয্যা সংকটের কারণে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেক রোগীকে।
এদিকে হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে অতিরিক্ত খরচে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দরিদ্র রোগীরা।
স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তবর্তী এ উপজেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্যপদে চিকিৎসক ও কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে বিকল এক্স-রে মেশিন সচল এবং হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন।
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. ফাহমিদা সুলতানা রুনা আগামীর সময়কে জানান, সম্প্রতি এ হাসপাতালে যোগদান করেছেন তিনি। দায়িত্ব নেওয়ার পর চিহ্নিত করা হয়েছে সমস্যাগুলো। শূন্যপদ পূরণ এবং বিকল যন্ত্রপাতি সচল করার বিষয়ে এরইমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তার আশা, দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে।





