‘ঘুষ না দেওয়ায়’ ঠিকাদারকে মারধরের অভিযোগ পৌর কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

ঠিকাদার হাসিবুল হাসান আবদুল্লাহ। ছবি: আগামীর সময়
ফরিদপুরের নগরকান্দায় এক ঠিকাদারকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির ও তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার ঠিকাদার হাসিবুল হাসান আবদুল্লাহ জানান, তার প্রতিষ্ঠান সৈয়দা জাহানারা এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে ২০২৩ সালে আইইউআইডিপি প্রকল্পের আওতায় তিনটি সড়কের আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। ওই কাজের বিল আট মাস আগে অনুমোদন করা হলেও তা আটকে রাখা হয়।
ঠিকাদারের অভিযোগ, বিল ছাড়ের জন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন তার কাছে ১৫ শতাংশ ঘুষ দাবি করেন। গত সোমবার পাঁচ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে বিল আটকে রেখে তাকে হয়রানি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেন হাসিবুল।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেছেন, গতকাল আটকে থাকা বিলের বিষয়ে কথা বলতে হুমাযুনের কক্ষে যান হাসিবুল। এ সময় হুমায়ুন ও তার সহযোগী মোসলেম উদ্দিন জিআই পাইপ দিয়ে তাকে মারধর করে হাত ভেঙে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে ওই ঠিকাদারকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে হুমায়ুন বলছেন, ‘ঠিকাদারের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বিল দেওয়া হচ্ছিল না। পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা ছিল, কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল না দেওয়ার।’
বিলে সই না দেওয়ার কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে কক্ষে এসে হাসিবুল তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে নগরকান্দা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, ঠিকাদারের বিলের বিষয়টি তিনি জানেন। কাজের অসংগতি পাওয়ায় কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিল দিতে নিষেধ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কক্ষে ঠিকাদার কী কারণে গিয়েছিলেন, তা তিনি জানেন না।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এ ধরনের মারধরের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে ইউএনও বললেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’





