‘চড়ুই পাখির কলরবে আটকে যায় চোখ’

ছবি: আগামীর সময়
চড়ুই গড়নে ছোট প্রকৃতির একটি পাখি। আকৃতি ছোট হলেও মানুষের কাছাকাছি থাকতে ভালোবাসে এরা। তাই আশ্রয় হিসেবে বেছে নেয় বসতবাড়ি। এর বাইরেও বাসস্ট্যান্ড কিংবা রেলওয়ে স্টেশন চত্বরের বিভিন্ন গাছে ঝাঁকে ঝাঁকে দেখা মিলে পাখিটির।
আকারে ছোট হলেও পাখিটির কিচিরমিচির শব্দ উদ্বেলিত করে মানুষের মন। প্রতিদিন এমন দৃশ্য দেখা যায় দিনাজপুর স্টেশনের প্রবেশপথেই। প্রথম দেখাতে মনে হবে জায়গাটি যেন চড়ুই পাখির অভয়ারণ্য।
গোধূলি লগ্নে শত শত চড়ুই পাখির কলতানে পুরো স্টেশন চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে। স্টেশনে অপেক্ষারত যাত্রীরা চায়ের চুমুকে উপভোগ করেন এ দৃশ্য। এছাড়াও মনোরম এ দৃশ্য দেখার জন্য পাখিপ্রেমীরা রোজ সেখানে ভিড় করেন।
স্টেশনের প্রবেশ মুখে বরইসহ কয়েকটি গাছ চড়ুই পাখির নিরাপদ আশ্রয়। সন্ধ্যা যত ঘনিয়ে আসে ততই পাখির আনাগোনা বাড়তে থাকে সেখানে। বিকাল হলেই গাছের ডাল ও পাতার ফাঁকে ফাঁকে পাতার চেয়ে পাখিই বেশি দেখা যায়। রেলওযে স্টেশন এলাকার এ চিত্র এখন প্রতিদিনের। এখানে ছবি বা সেলফিও তোলেন অনেক পাখিপ্রেমী।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন শেষ বিকেলে পাখিগুলো দল বেঁধে স্টেশন চত্বরের গাছ ও বৈদ্যুতিক তারে বসে কিচিরমিচির করে। আর ভোর থেকেই গাছ থেকে উড়াল দিয়ে পাখিগুলো হারিয়ে যায় দূর আকাশে। আবার শেষ বিকালে দল বেঁধে গাছের ডালে ফেরে। এ দৃশ্যে মুগ্ধ হন তারা।
স্টেশন এলাকায় ছুটির দিনে চড়ুই পাখি দেখতে যান কলেজ শিক্ষক আরিফুল। তিনি বললেন, ‘আধুনিক যুগে পাখিদের সঙ্গে আমাদের সখ্যতা কমছে। হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির পাখি। তাই সময় হলেই চড়ুইয়ের কলরব শুনতে ছুটে আসি। গাছের ফাঁকে ফাঁকে লুকিয়ে থাকা চড়ুইদের কলরবে আটকে যায় চোখ।’
স্টেশন চত্বরের একজন চা বিক্রেতার ভাষ্য, ‘পাখিগুলোকে কেউ ঢিল ছুড়ে না। কেউ বিরক্ত করার চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন। এজন্য দিনের পর দিন নির্ভয়ে এই এলাকায় আছে তারা। পাখিগুলোর কলরব আমাদের মনে প্রশান্তি বয়ে আনে। তাই আমরা তাদের আগলে রাখি।’





