বগলের নিচে ১৫ বছরের টিউমার

ছবি: আগামীর সময়
নদীভাঙনে বারবার ভিটেমাটি হারিয়েছেন আজিজার রহমান। বয়স এখন ৭০। সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চলের হাসিলকান্দি গ্রামে অন্যের জমিতে ঘর তুলে ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে বসবাস করেন তিনি। তবে ভিটেমাটি হারানোর কষ্টের সঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন আরও এক যন্ত্রণা। বাম হাতের বগলের নিচে তার শরীরে কেজি দুয়েকের একটি টিউমার তৈরি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সেটি আরও বড় হচ্ছে।
আজিজার রহমানের ভাষ্য, প্রায় ১৫ বছর আগে বগলের নিচে একটি মৌমাছি কামড় দেয়। এরপর ওই স্থানে পরিবর্তন দেখা দেয়। বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন। হোমিওপ্যাথিক ওষুধও খেয়েছেন। সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও চিকিৎসকের কাছে গেছেন। সেখানে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
কিন্তু অস্ত্রোপচারের কথা শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আজিজার। স্থানীয় কয়েকজনের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, এ ধরনের টিউমার অস্ত্রোপচার করার পর একজনের মৃত্যু হয়েছে। পরে সেটি ক্যানসারে পরিণত হয়েছিল বলেও তিনি শুনেছেন। সেই ভয় থেকেই অস্ত্রোপচারে যেতে চাইছেন না তিনি।
আজিজার রহমান বলেন, ‘টিউমারটি দিন দিন বড় হচ্ছে। এখন গামছা দিয়ে বেঁধে চলাফেরা করতে হয়। শরীর নড়াচড়া করলে ঝাঁকুনিতে ব্যথা করে।’ তার দাবি, টিউমারটি বড় হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। একসময় তিনি কর্মক্ষম ছিলেন। এখন শারীরিক সমস্যার কারণে অনেক কাজই করতে পারেন না।
এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. ইলতুতমিশ আকন্দ পিন্টু জানান, এটি পেডুনকুলেটেড টিউমার হতে পারে। তবে টিউমারের প্রকৃতি নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। তিনি জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমারটি অপসারণ করা সম্ভব। সফল অস্ত্রোপচারের পর রোগী সুস্থ থাকতে পারেন।
নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো আজিজারের নিজের কোনো জমিও নেই। অন্যের জমিতে ঘর তুলে চলছে তার সংসার। সেই অসহায় জীবনের সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে শরীরের এই দীর্ঘস্থায়ী বোঝা। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া মানুষটি তাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। কিন্তু চিকিৎসার খরচ ও অস্ত্রোপচার নিয়ে ভয়-দুইয়ের মাঝেই আটকে আছে তার জীবন।




