শূন্যরেখার শূন্য মানবতায় উদ্বেগ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ভাষা-ধর্মের গন্ধ শুঁকে শুঁকে নিজ দেশের মানুষগুলোকে ভিনদেশে ঠেলে দেয় রাষ্ট্র! মায়ামাখা সংসারের উঠোন থেকে তুলে এনে আবর্জনার মতো ছুড়ে ফেলছে কাঁটাতারের বাইরে। রাজনীতির স্বার্থে আজ তারা অচ্ছুত হলেও বেশিরভাগেরই জন্মের শিকড় পড়ে রয়েছে ওপারের মাটিতে। কারও আবার চৌদ্দপুরুষের নাড়ি পোঁতা! অথচ আজ তারা নিঃস্ব। ঠিকানাহীন।
সহায়-সম্বল নিয়ে শূন্যরেখায় তড়পাচ্ছে। মাথার ওপর রোদ-বৃষ্টি-ঝড়। রাত নামলেই বুনো মশা, সাপ, শিয়ালের ভয়। সামনের বাংলাদেশ, পেছনের ভারত। কেউ তাদের নয়। খাবার নেই, পানি নেই। চারদিকে শুধু নেই আর নেই। মাথার ওপরের আকাশটিও তাদের নয়। শূন্যরেখার এ গোলকধাঁধার বাঁকে সবই যেন ‘মহাশূন্য’। মানবতার বালাইটুকুও নেই দুদেশের এ শূন্যরেখায়। ভারতের পুশইন নিষ্ঠুরতার শিকার নো ম্যানস ল্যান্ডে পড়ে থাকা হতভাগাদের দুর্দশা নিয়ে গত মঙ্গলবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
কোনো ধরনের ‘আইনি বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে’ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলা ভাষী মুসলমানদের বাংলাদেশে ‘পুশইন’ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি। সীমান্তের করুণ দৃশ্য তুলে ধরে তারা বিবৃতিতে বলেছে, একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এসব মানুষকে জোর করে ঠেলে দিচ্ছে, অন্যদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের ঠেকিয়ে দিচ্ছে। ফলে দুদেশের ‘শূন্যরেখায়’ চরম দুর্ভোগে আটকে রয়েছে বেশ কিছু পরিবার।
বিজিবির তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, গত ১ জুন থেকে শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে পুশইনের অন্তত ২১টি চেষ্টা নস্যাৎ করেছে বাংলাদেশ।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলী বলেছেন, ‘ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিষ্ঠুরভাবে পরিবারগুলোকে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বা সীমান্তে আটকে রাখছে। এক্ষেত্রে ন্যূনতম মানবাধিকারের ধার ধারা হচ্ছে না।’




