সাঘাটায় সরকারি ডেন্টালসেবা ‘লাইফ সাপোর্টে’

সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও জনবল সংকটের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ডেন্টাল (দাঁতের) সেবা।
একমাত্র বিডিএস চিকিৎসক দীর্ঘমেয়াদি ছুটিতে থাকায় এবং ডেন্টাল টেকনোলজিস্টকে অন্য উপজেলায় প্রেষণে পাঠানোয় প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শত শত রোগী। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিটের সরকারি চেয়ার ও যন্ত্রপাতি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত টেকনোলজিস্ট না থাকায় ডেন্টাল কক্ষটি বর্তমানে শিশুস্বাস্থ্যসেবার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে দাঁতের সমস্যায় হাসপাতালে আসা রোগীদের চিকিৎসা না পেয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, সাঘাটা উপজেলার নদীভাঙনকবলিত চরাঞ্চল ছাড়াও পাশের ফুলছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জন্য এই হাসপাতালই দাঁতের চিকিৎসার একমাত্র সরকারি ভরসা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ডেন্টাল চিকিৎসক ছুটিতে রয়েছেন। অন্যদিকে একমাত্র ডেন্টাল টেকনোলজিস্টকে প্রেষণে ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
কামালেরপাড় চরাঞ্চলের বাসিন্দা আব্দুল ওয়াহেদ (৫৮) জানিয়েছেন, তিন দিন ধরে তীব্র দাঁতের ব্যথায় ভুগছেন। অনেক কষ্ট করে হাসপাতালে এসে জানতে পারেন চিকিৎসকও নেই, চিকিৎসাও নেই। বাধ্য হয়ে কবিরাজের কাছে গেলেও কোনো উপকার পাননি।
কাতলামারীর চর থেকে আসা সেলিনা বেগম বলেছেন, সহজ যোগাযোগের কারণে তিনি সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে এসেও চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সেবা না পাওয়ায় অনেক দরিদ্র রোগী বাধ্য হয়ে ভিলেজ ডাক্তার, কবিরাজ কিংবা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর করছেন। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ছে। চরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের পক্ষে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নেওয়াও সম্ভব নয়।
সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইলতুতমিশ আকন্দ পিন্টু আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ডেন্টাল চিকিৎসক শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘমেয়াদি ছুটিতে রয়েছেন, যা প্রায় এক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। টেকনোলজিস্ট প্রেষণে থাকায় ডেন্টাল কক্ষটি শিশুস্বাস্থ্যসেবার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, টেকনোলজিস্টের প্রেষণ বাতিলের আবেদন করা হবে এবং বিষয়টি দ্রুত জেলা সিভিল সার্জনকে জানানো হবে।





