টাঙ্গাইল
সংঘর্ষের পর মাইকে অস্ত্র নিয়ে জড়ো হওয়ার ঘোষণা

সংগৃহীত ছবি
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর ও গোপালপুর উপজেলার দুই গ্রামের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার পর নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে উত্তেজনা।
আজ শুক্রবার নলিন বাজারে সংঘবদ্ধভাবে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকে ঘোষণা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের একটি গ্রামের পক্ষ থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় মাইক বেঁধে বিভিন্ন এলাকায় চালানো হচ্ছে প্রচারণা। মাইক থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে, ‘শুক্রবার হেমনগর ইউনিয়নবাসী যার কাছে যে অস্ত্র আছে, তা নিয়ে নলিন বাজারে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’
এ ধরনের ঘোষণার পর ভূঞাপুর ও গোপালপুর উপজেলার বাসিন্দারা সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং পাল্টা সতর্কতামূলক ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা এবং পার্শ্ববর্তী গোপালপুর উপজেলার গোলপেচা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পুরোনো বিরোধের জেরে দফায় দফায় সংঘর্ষ, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দা কালাম তালুকদার (৬৫) নিহত হন। তিনি মৃত হাবিবুর রহমান তালুকদারের ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দেড় মাস আগে ঘটে যাওয়া একটি বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার পুনরায় ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। একপর্যায়ে গোলপেচা গ্রামের কিছু লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কালাম তালুকদারের ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
সংঘর্ষে আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে করা হয়েছে ভর্তি। এছাড়া কয়েকটি বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে।
ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসলাম উদ্দিন জানান, নিহত কালাম তালুকদারের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেছেন, ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও দুই গ্রামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যাতে এলাকায় শান্তি বজায় থাকে এবং নতুন করে কোনো সহিংসতা না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি রাখছে পুলিশ। রাত থেকে শুরু করে শুক্রবার দিনভর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলি বলছিলেন, দুই গ্রামের মধ্যে চলমান বিরোধটি মূলত একটি ব্যক্তিগত ঘটনাকে কেন্দ্র করে। কয়েক মাস আগে একটি দোকানে বাকির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল। পরে বিভিন্ন উদ্যোগে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে আবারও সংঘাতের পুনরাবৃত্তি হওয়ায় এলাকায় তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল দোকানের বাকি টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে জগৎপুরা ও গোলপেচা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেদিন কয়েক দফা সংঘর্ষে অর্জুনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিয়ামত আলী খানসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও প্রাণহানির ঘটনায় দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েছে।




