দুর্গন্ধে স্টেশনে দাঁড়ানোই যেন শাস্তি

রাজারহাট রেলওয়ে স্টেশন এখন চরম অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার চিত্র বহন করছে। দুর্গন্ধ, জলাবদ্ধতা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, অকার্যকর শৌচাগার ও প্ল্যাটফর্ম সংকটে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে স্টেশনটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়বে।
স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, ভবনের দুই পাশে জমে আছে নোংরা পানি। সেখানে কচুরিপানা ও আবর্জনা পচে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, অনেক জায়গায় ঢালাই খসে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই স্টেশন ভবন ও শৌচাগারে পানি উঠে যায়।
উপজেলার একমাত্র রেলস্টেশন হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী এখান থেকে যাতায়াত করেন। এই লাইনে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, রমনা লোকাল ও মিশ্র ট্রেনসহ মোট চারটি ট্রেন চলাচল করলেও গুরুত্বপূর্ণ কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস স্টেশনটিতে থামে না। এ ছাড়া স্টেশনটিতে কোনো টিকিট বরাদ্দও নেই।
বর্তমানে ১৩১ নম্বর কুড়িগ্রাম-পার্বতীপুর, ১৩২ নম্বর পার্বতীপুর-রমনা বাজার, ১৩৩ নম্বর রমনা বাজার-রংপুর এবং ১৩৪ নম্বর রংপুর-কুড়িগ্রাম লোকাল ট্রেন চলাচল করছে।
রংপুরগামী যাত্রী আরাফাত হোসেন মন্তব্য করেন, স্টেশনের দুর্গন্ধের কারণে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। তার ভাষ্য, মাস্ক পরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
কাউনিয়াগামী যাত্রী ছাত্তার আলী (৬৮) উল্লেখ করেন, বসার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। একপর্যায়ে অসুস্থ বোধ করায় তাকে ময়লার মধ্যেই বসে পড়তে হয়।
রাজারহাট বাজার থেকে সিঙ্গেরডাবরী হাটে যাওয়া মতিন মিয়া দাবি করেন, অটোরিকশার ভাড়ার চেয়ে ট্রেনের ভাড়া বেশি হওয়ায় অনেকেই টিকিট না কেটে যাতায়াত করেন।
স্টেশনের আশপাশে রেলের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা। লুপ লাইনের নিচের অংশ ভেঙে গেলেও দীর্ঘদিন তা মেরামত করা হয়নি।
স্টেশনের বুকিং ইনচার্জ সুমন জানিয়েছেন, প্রায় এক যুগ ধরে এখানে কোনো স্টেশন মাস্টার নেই। একটি স্টেশন পরিচালনায় যেখানে সাত থেকে আটজন জনবল প্রয়োজন, সেখানে বর্তমানে তিনি ও একজন পোর্টার মিলে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। লোকবল সংকটে আধুনিক যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ভবনগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টির সময় পানি ঢুকে পড়ে, এমনকি সাপও দেখা যায়। তার ভাষ্য, নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।





