বিদ্যুৎ সংকটে বেকায়দায় উত্তরাঞ্চলের মানুষ

সংগৃহীত ছবি
অসহ্য গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা। বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ থাকছে না দিনের বড় একটি সময়। এতে নষ্ট হচ্ছে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বারবার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার কারণে ফ্রিজসহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। পাশাপাশি গরমে বেড়েছে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগও।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ১৭টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক আছে প্রায় এক কোটি। তবে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে হচ্ছে নিয়মিত। এর পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আরও ব্যাহত হচ্ছে সরবরাহ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গড়ে ৫-৭ লাখ গ্রাহক আছে প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায়। প্রতিটি সমিতিতে বিদ্যুতের চাহিদা ৭০-১২০ মেগাওয়াট হলেও প্রতিদিন গড়ে ঘাটতি থাকছে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট।
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতায় প্রায় ৬ লাখ গ্রাহক রয়েছে। সেখানে প্রতিদিন ১১০-১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৭০-৮০ মেগাওয়াট। উত্তরাঞ্চলের অন্য পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর অবস্থাও প্রায় একই।
মিঠাপুকুর উপজেলার গ্রাহক হাবিবুর রহমান বলেছেন, ‘তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিষয়টি বারবার জানানো হলেও মিলছে না কোনো কার্যকর সমাধান।’
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর গঙ্গাচড়া জোনাল অফিসের আওতায় বুড়িরহাট এলাকার গ্রাহক আলবেদা খাতুন অভিযোগ করেছেন, শনিবার সকাল ৭টা থেকে রবিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০ বার লোডশেডিং হয়েছে। রবিবার সকাল থেকেও কয়েক দফা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল। অনেক সময় আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকার পর কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।
তালুক হাবু গ্রামের আহাদ আলী জানালেন, গত কয়েক দিন ধরে প্রতিদিন ১০-১২ বার লোডশেডিং হচ্ছে। দিনের প্রায় অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এতে ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গ্রাহকদের আরও অভিযোগ, সামান্য মেঘ করলেও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আবার সপ্তাহে একদিন লাইনের কাজের জন্য পূর্বঘোষণায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়। এর বাইরে ঘোষণা ছাড়াও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার ঘটনাও ঘটছে।
গঙ্গাচড়া জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ফরহাদ হোসেন বলেছেন, ‘লাইনের ত্রুটি মেরামতের জন্য গ্রাহকদের আগেই জানিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। আর লোডশেডিং বিদ্যুতের ঘাটতির কারণেই দিতে হচ্ছে। বর্তমানে ১৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।’
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মনোয়ারুল ইসলাম ফিরোজী জানালেন, ১০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে তারা ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। ফলে লোডশেডিং এড়ানোর সুযোগ নেই। চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বরাদ্দ পেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ লাইনের ত্রুটিও দ্রুত মেরামতের চেষ্টা চলছে। উত্তরাঞ্চলের ১৭টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতেই একই ধরনের সংকট রয়েছে।





