আদালতের কাজে অসহযোগিতা করায় ওসিকে তলব

উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক
ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারে অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগে কুড়িগ্রামের উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিককে তলব করেছেন আদালত।
একই সঙ্গে আদালতের কাজে অসহযোগিতার অভিযোগে ওসির প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রাম জেলা জজ আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম আদালত) মোহাম্মদ নাজমুল হক এ নির্দেশ দেন। জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর একটি মামলায় উলিপুরের বাসিন্দা ও পুলিশ কনস্টেবল জাহিদ হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয়। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।
আসামি পলাতক থাকায় তার স্থায়ী ঠিকানা উলিপুর এবং বর্তমান ঠিকানা লালমনিরহাট উল্লেখ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরোয়ানাটি তামিলের জন্য উলিপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আসামি একজন কর্মরত পুলিশ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এমনকি তাকে গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি।
তলব আদেশে আদালত উল্লেখ করেছেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে উলিপুর থানার ওসি চরম অবহেলা ও গাফিলতি দেখিয়েছেন। আদালতের কাজে অসহযোগিতার জন্য তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৮৭ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না কেন, আদালত অবমাননার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টকে অবহিত করা হবে না কেন এবং অসদাচরণ ও অদক্ষতার জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে না কেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আগামী ৩০ আগস্ট সকাল ৯টায় সংশ্লিষ্ট আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও আদেশে বলা হয়েছে।
আদেশের অনুলিপি উলিপুর থানার ওসির পাশাপাশি রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি ও কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপারের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানিয়েছেন, তিনি এখনো আদালতের আদেশের কপি পাননি। কপি পাওয়ার পর জবাব দেওয়া হবে।







