মাদকাসক্ত ভাইয়ের মারধরে বড় বোনের মৃত্যু, কারাগারে অভিযুক্ত

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কুমিল্লার তিতাসে মাদকাসক্ত ছোট ভাইয়ের মারধরে বড় বোনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। অভিযুক্ত ভাইকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার জগতপুর ইউনিয়নের রায়পুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাজিয়া আক্তার (৩৫) আব্দুস সামাদের মেয়ে। অভিযুক্ত সানাউল্লাহ (২৮) তার ছোট ভাই।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক কেনার টাকার জন্য সানাউল্লাহ তার অসুস্থ বড় বোন রাজিয়া আক্তারকে মারধর করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে মারধরের পর গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন এবং পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন।
খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার লুবনা পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সানাউল্লাহকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এর কিছুক্ষণ পর রাত ৮টার দিকে আহত রাজিয়া আক্তার মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। রবিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিতাস থানার ওসি মমিরুল হক জানান, সানাউল্লাহ মাদকের টাকার জন্য তার বোনকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। ঘটনাস্থল থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জাম জব্দ করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রাতে রাজিয়া আক্তারের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার লুবনা জানান, সানাউল্লাহর বাবা আব্দুস সামাদ তার কাছে জানিয়েছেন, ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। তিনি প্রায়ই মাদকের টাকার জন্য বাবা ও পরিবারের সদস্যদের মারধর করত। ঘটনাস্থল থেকে মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
নিহতের বাবা আব্দুস সামাদের ভাষ্য, ‘ছানাউল্লাহ মাদকাসক্ত। প্রায় সময় আমাকেসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের মারধর করত। আজকে আমার অসুস্থ মেয়েটাকে মাইরা লাইছে।’




