বেড়িবাঁধের অভাবে বাড়ছে রেজুখালের ভাঙন

ছবি: আগামীর সময়
বর্ষা এলেই আতঙ্কে থাকেন কক্সবাজারের রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের মানুষ। রেজুখালের পানি বাড়লেই ভেঙে যায় নদীপাড়। লবণাক্ত জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে কৃষিজমিতে। তলিয়ে যায় ধানক্ষেত, পানবরজ ও মাছের ঘের।
পশ্চিম গোয়ালিয়াপালং, দক্ষিণ গোয়ালিয়াপালং ও টাইংগাকাটা এলাকার মানুষ বছরের পর বছর একই দুর্ভোগে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৪ কিলোমিটার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। তবে এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও হতাশা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেজুখালের ভাঙা অংশ দিয়ে প্রতিটি জোয়ারে লবণাক্ত পানি কৃষিজমি ও বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ে। এতে ধান, পানবরজ, সুপারি, শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় মাছের ঘেরও। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় এক হাজার কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েন। এর প্রভাব পড়ে কয়েক হাজার মানুষের জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়।
শুধু কৃষিজমিই নয়, নদীভাঙনের কবলে পড়ে বিলীনের পথে রয়েছে বহু বছরের পুরনো বসতভিটাও। স্থানীয়দের ভাষ্য, রেজুখালের অব্যাহত ভাঙনে অন্তত ৩০টি পরিবার এখন সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
কৃষক আব্দুল রশিদ বললেন, ‘প্রতিবছর একইভাবে ফসল নষ্ট হয়। অনেক কষ্ট করে চাষাবাদ করলেও শেষ পর্যন্ত লাভের বদলে গুনতে হয় লোকসান। একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ হলে কৃষিকাজ করা সম্ভব।’
খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম জানালেন, তাদের প্রায় ২০০ বছরের পুরনো বসতভিটা একসময় রেজুখাল থেকে প্রায় ৫০০ ফুট দূরে ছিল। বছরের পর বছর ভাঙতে ভাঙতে খালটি এখন বাড়ির একেবারে কাছে চলে এসেছে।
তিনি বললেন, ‘ইতোমধ্যে অনেক গাছপালা, কৃষিজমি ও অন্যান্য সম্পদ খালের ভাঙনে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে অন্তত ২০টি পরিবার সরাসরি ভাঙনের ঝুঁকিতে। নতুন নির্মিত আমার বাড়িটিও এখন খালের কিনারায়।
দ্রুত টেকসই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেওয়া না হলে বর্ষাতেই কয়েকটি বসতভিটা খালগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।’—যোগ করেন সিরাজুল ইসলাম।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহাবুব রহমানের ভাষ্য, ‘বছরের পর বছর এলাকাটি অবহেলিত। বর্ষা এলেই মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। প্রায় ৪ কিলোমিটার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের একটি প্রস্তাব ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকার দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বলে স্থানীয়দের আশা।’
রামু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত দেবনাথ বললেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।’
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান জানালেন, তিনি এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি সার্বক্ষণিক তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




