হিলি ইমিগ্রেশন ফিরেছে পুরনো রূপে, ব্যস্ততায় স্বস্তিতে শ্রমিকরা

দীর্ঘদিন পর ভারতীয় টুরিস্ট ভিসা চালু হওয়ায় দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী পারাপার বেড়েছে। ছবি: আগামীর সময়
দীর্ঘদিন পর ভারতীয় পর্যটন ভিসা চালু হওয়ায় দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বাড়ছে যাত্রী পারাপার। কর্মব্যস্ততায় আয়-রোজগার স্বাভাবিক হওয়া খুশি স্থানীয় শ্রমিকরা। দুই মাসে সরকারের রাজস্ব আদায়ও বেড়েছে কয়েকগুণ।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর এটি। সড়ক ও রেলপথে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে এই ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট বেশ জনপ্রিয়। চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, ভ্রমণ ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন এ পথে যাতায়াত করেন পাসপোর্টধারী যাত্রীরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশি নাগরিকদের পর্যটন ভিসা দেওয়া বন্ধ করে ভারত। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর টুরিস্ট ভিসা চালুর কথা বিভিন্ন সময় জানায় দেশটির সরকার। অবশেষ গত ২৮ জুন থেকে শুরু হয় টুরিস্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী চলাচল।
ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, টুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকাকালে এ পথে প্রতিদিন গড়ে ১১০ থেকে ১২০ জন পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার করতেন। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ১৬০ জনে দাঁড়িয়েছে।
কাস্টমস স্টেশন কর্মকর্তারা জানালেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত এই চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন ৯ হাজার ২৩৩ জন এবং বের হয়েছেন ২১ হাজার ৪৪০ জন। এ সময়ে ভ্রমণকর হিসেবে সরকার পেয়েছে ২ কোটি ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব।
এছাড়া চলতি বছরের জুলাই থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত যাত্রী পারাপার থেকে ভ্রমণকর বাবদ রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬২ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা।
ব্যস্ততা বাড়ায় স্বস্তি ফিরেছে চেকপোস্টে কাজ করা লাগেজ শ্রমিকদের মধ্যে। আব্দুর রহমান নামের এক শ্রমিক জানান, যাত্রী কমে যাওয়ায় দীর্ঘদিন তাদের আয়-রোজগারও কমেছিল। অনেকে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেছে। এখন আবার তারা কাজ করে সংসার চালাতে পারছেন।
হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ওসি মো. জাকারিয়া বললেন, ‘আগের তুলনায় যাত্রী পারাপার বেড়েছে। যাত্রীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ নজরদারি রাখছে।’





