সুনামগঞ্জ
আকস্মিক বন্যার আভাস, ধান কাটার সময় বেঁধে দিল পাউবো

ছবি: আগামীর সময়
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে (সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা) আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বন্যার ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত ধান কাটার জন্য কৃষকদের অনুরোধ জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়, ‘বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলো, সুরমা-কুশিয়ারা ও ধনু-বাউলাই নদীগুলোর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে ভুগাই-কংস নদীগুলোর পানি সমতল স্থিতিশীল এবং নদীগুলো প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি।’
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন উজানে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হয়েছে গত ৭ দিন। আর আগামী ৭ দিন (২৩ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল, ২০২৬) সামগ্রিকভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন উজানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হতে পারে বৃষ্টিপাত। ৭ দিনে স্থানভেদে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হতে পারে ১৫০-৩০০ মি.মি.।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার প্রধান নদীগুলো (সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস) এবং অন্যান্য উপনদীর পানি সপ্তাহের প্রথমভাগে স্থিতিশীল থাকলেও সপ্তাহের শেষ ভাগে (২৮ এপ্রিল থেকে) বৃদ্ধি পেয়ে নদীগুলোর কোথাও কোথাও প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে বর্ণিত সময়ে (২৮ এপ্রিল হতে ৩০ এপ্রিল) দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে (সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা) ঝুঁকি রয়েছে আকস্মিক বন্যার। পরবর্তী ৩ দিনেও (৩০ এপ্রিল হতে ৩ মে) রয়েছে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস।
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি সমতল গত ২৪ ঘণ্টায় হ্রাস পেয়েছে। অপরদিকে ধনু-বাউলাই ও ভুগাই-কংস নদীগুলোর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে এবং নদীগুলো প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকায় এবং দেশের উজানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়নি— জানিয়েছেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম শোভন।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকায় আগামী ২ দিন হালকা থেকে মাঝারি এবং তৃতীয় দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকার সুরমা-কুশিয়ারা ও ভুগাই-কংস নদীগুলোর পানি সমতলে আগামী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং তৃতীয় দিন বৃদ্ধি পেতে পারে। অপরদিকে ধনু-বাউলাই নদীগুলোর পানি সমতলে আগামী একদিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পরবর্তী ২ দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে; নদীগুলো প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। মেঘালয় পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত সুনামগঞ্জ। উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জি ও সুনামগঞ্জে প্রচুর বৃষ্টি হয়। এতে পাহাড়ি ঢল নামে, এতে ক্ষতি হয় বোরো ফসলের।
সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবার সুনামগঞ্জে আবাদ হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর ধান, লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর। জেলায় ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টন। আগাম বৃষ্টিপাতের ফলে প্রথম ধাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২১ হেক্টর ও দ্বিতীয় ধাপের বৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ২১০ হেক্টর ধান। এই দুই ধাপে মোট ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৩৩১ হেক্টর বোরো ধান। বর্তমানে ধান কাটা শুরু হয়েছে সব উপজেলায়। আবহাওয়া ভালো থাকলে মে মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে শেষ হবে শতভাগ ধান কাটা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত হাওরে ধান কাটা শেষ হয়েছে ৩৭ শতাংশ। উঁচু এলাকায় ধান কাটা হয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেছেন, ‘শুক্রবার রাত থেকেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবার ২৮ এপ্রিল থেকে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ দশমিক ৭৭ সেন্টিমিটার নিচে। তবে ভারী কিংবা অতিভারী বৃষ্টি হলে আগাম বন্যার শঙ্কা আছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বোরো ধান। সে জন্য আগামী ২৮ এপ্রিলের আগে পাকা ধান কাটতে অনুরোধ করা হয়েছে কৃষকদের।

