পাহাড়ের বুকে নীল জলে রোমাঞ্চ

ছবি: আগামীর সময়
সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে বিস্তৃত শান্ত লেক। চারদিকে নীরব প্রকৃতি মাঝে স্বচ্ছ জলের দোলা। সেই মনোমুগ্ধকর পরিবেশে এবার যুক্ত হয়েছে রাজহংসী আকৃতির নৌযান কায়্যাকিংসহ চারটি নতুন জলযান। ফলে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির উপবন লেকে ভ্রমণের আনন্দে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা।
শুত্রুবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে উপবন লেকে গিয়ে দেখা যায়, নতুন সংযোজিত নৌযানগুলো ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ছে। কেউ রাজহংসী নৌযানে পরিবার নিয়ে ঘুরছেন আবার কেউ কায়্যাকিংয়ের রোমাঞ্চ উপভোগ করছেন। পাহাড়, লেক আর নির্মল প্রকৃতির মেলবন্ধনে পর্যটকদের মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তি ও আনন্দের হাসি।
ঘুরতে আসা পর্যটকরা বলেন, কয়েক বছর ধরেই উপবন লেক ধীরে ধীরে পর্যটকদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠছে। নতুন নৌযান যুক্ত হওয়ায় শুধু বিনোদনের পরিধিই বাড়বে না বরং নাইক্ষ্যংছড়ির পর্যটন খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
উপজেলা যুবদল নেতা জিয়াবুল হক জিয়া বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা উপবন লেক ইতোমধ্যে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। নতুন নৌযান সংযোজনের ফলে পর্যটকরা আরও নিরাপদ স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে লেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুল হাসান বলেন, নাইক্ষ্যংছড়িকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। দুই দিন আগে উপবন লেকে রাজহংসী ও কায়্যাকিংসহ নতুন চারটি নৌযান সংযোজন করা হয়েছে। আমরা চাই পর্যটকরা পাহাড় সবুজ প্রকৃতি ও লেকের সৌন্দর্য নিরাপদ পরিবেশে উপভোগ করুন। ভবিষ্যতেও পর্যটকদের জন্য আরও নতুন নতুন বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ি লেকের চিরায়ত নৌভ্রমণ যেন অবসরের নির্মল বিনোদনে পরিণত হয় সেই লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করছে। পর্যটকদের সুবিধা নিরাপত্তা ও সেবার মানোন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপত্তা ও বিনোদনের সুযোগ একসঙ্গে বাড়ানো গেলে উপবন লেক শুধু বান্দরবান নয় দেশের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। নতুন নৌযান সংযোজন সেই সম্ভাবনাকেই আরও শক্তিশালী করেছে।



