শ্রীমঙ্গলেে দুটি অজগর উদ্ধার, লাউয়াছড়া উদ্যানে অবমুক্ত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলেে দুটি স্থান থেকে অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। সংগৃহীত ছবি
বিশ্ব সাপ দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলেে আলাদা দুটি অভিযানে দুটি অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সাপ দুটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাদেরকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর ভাড়াউড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে প্রথম অজগরটি উদ্ধার করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের হুগলিয়া এলাকা থেকে দ্বিতীয় অজগরটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, উত্তর ভাড়াউড়া এলাকার জুবায়ের আহমেদের বাড়ি থেকে কয়েক দিন ধরে হাঁস-মুরগির বাচ্চা নিখোঁজ হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির দেয়ালের ওপর একটি বড় অজগর দেখতে পান। অজগরটি পাশের একটি গাছের দিকে যাচ্ছিল। পরে ধারণা করা হয়, নিখোঁজ হওয়া হাঁস-মুরগির বাচ্চাগুলোই সাপটির খাদ্যে পরিণত হয়েছিল।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ অজগরটিকে উদ্ধার করেন।
একই দিন সন্ধ্যায় উপজেলার হুগলিয়া এলাকায় আরেকটি অজগর সাপ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। সাপটি দেখে কয়েকজন আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে মারার চেষ্টা করলে অন্য ব্যক্তিরা বাধা দেন। পরে সাপটিকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। এ সময় সাপটিকে দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভীড় করেন উৎসুক মানুষেরা।
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দ্বীপ জানান, সকালে উদ্ধার হওয়া অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ফুট এবং ওজন ১০ থেকে ১২ কেজি। স্থানীয় মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতার কারণেই দুটি সাপই কোনো ধরনের ক্ষতি ছাড়াই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেছেন, ‘আমার বাবা সিতেশ রঞ্জন দেব সারাজীবন বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষাকে নিজের জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি গত মঙ্গলবার মারা গেছেন। তার মৃত্যুর পর আমরা ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী হবিষ্যান্ন পালন করছি। এ সময় ঘরের বাইরে বের হওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু একটি অজগর বিপদে আছে, এ খবর শুনে মনে হয়েছে, এটি বাবারই অসমাপ্ত দায়িত্ব। তাই হবিষ্যান্নের পোশাকেই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছি। আমি ও আমার ভাই যতদিন বেঁচে থাকব, বাবার শুরু করা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের এই কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।’
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক জানান, অজগর বিষধর নয়। বরং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। লোকালয়ে সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে হত্যা না করে বন বিভাগ অথবা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমানের ভাষ্য, বিশ্ব সাপ দিবসে পরিচালিত এই অভিযান শুধু দুটি অজগরকে রক্ষার ঘটনা নয়। এটি প্রয়াত সিতেশ রঞ্জন দেবের বন্যপ্রাণীর প্রতি আজীবনের ভালোবাসা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সংরক্ষণ আন্দোলন নতুন প্রজন্মের হাতে এগিয়ে যাওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।





