কুমারখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
হাসপাতালের আবাসিক ভবনে ব্রয়লার খামার!

ছবি: আগামীর সময়
হাসপাতালে মানুষ আসেন সুস্থ হতে। কিন্তু কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চলতে হচ্ছে নাকে রুমাল দিয়ে। কারণ হাসপাতালের আবাসিক ভবনের ছাদে আর বসবাসের অবস্থায় নেই, পরিণত হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক মুরগির খামারে। হাসপাতালের আয়া পলি খাতুনের গড়ে তোলা এই খামারে বিষ্ঠার দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস প্রসূতি বিভাগ থেকে শুরু করে বহির্বিভাগের রোগীদের।
রবিবার (১০ মে) সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় এক অদ্ভুত চিত্র। হাসপাতালের মূল ভবনের ঠিক ৩০ মিটার দূরত্বেই আবাসিক কোয়ার্টার। আর হাসপাতালের গাইনি বিভাগ ও অপারেশন থিয়েটার এবং প্রসূতি মায়েরা যেখানে চিকিৎসাধীন, ঠিক তার পাশেই মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে এই খামার।
ছেলের চিকিৎসার জন্য আসা আফসানা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানালেন, ছেলে পানি খেতে চেয়েছিল বলে কোয়ার্টারের সামনের টিউবওয়েলে গিয়েছিলাম। সেখানে দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা! হাসপাতালের ভেতরে এমন খামার হয় কী করে? কর্তৃপক্ষ কি কিছুই দেখে না?
রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া বৃদ্ধ পথচারী আব্দুস ছাত্তারের আক্ষেপ, এমনিতেই শ্বাসকষ্টে ভুগছি। এই রাস্তা দিয়ে এখন চলাচল করা যায় না গন্ধে। যেখানে রোগ সারার কথা, সেখানেই রোগের কারখানা বানানো হয়েছে।
খামারের মালিক আয়া পলি খাতুন বিষয়টি স্বীকার করে জানান, এক মাস হলো খামারটি করেছি। বৃষ্টি হয়েছে বলে গন্ধ হচ্ছে। খামারে তিন শতাধিক ব্রয়লার মুরগি আছে। আজই এখান থেকে মুরগিগুলো সরিয়ে ফেলব।
মুরগির খামারটির ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানেন কি না? পলি খাতুনের উত্তর, স্যার খামারের বিষয়ে জানেন। আমি তাকে খামারে মুরগি তোলার ব্যাপারে জানিয়েছিলাম।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, কোয়ার্টারটি একসময় মাদকাসক্তদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছিল। তাই আগের কর্মকর্তা পলি খাতুনকে ওখানে থাকতে দিয়েছিলেন।
হাসপাতাল কোয়ার্টারে মুরগির খামার হওয়ার বিষয়টি জানেন না দাবি করে তিনি উল্লেখ করেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
এ ব্যাপারে জানতে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসানের ভাষ্য, বিষয়টি আপনি নজরে আনলেন। আমি ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে ব্যাপারটি দেখতে বলছি তাকে।




