জমি অধিগ্রহণে ধীরগতি, ধামরাইয়ে থমকে আছে উড়ালসড়কের কাজ

ছবি: আগামীর সময়
ঢাকার ধামরাইয়ের কাওয়ালিপাড়া বাজারে যানজট নিরসন ও যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে শুরু হওয়া উড়ালসড়কের নির্মাণ কাজ প্রশাসনিক জটিলতায় থমকে গেছে। কাজ বন্ধ থাকায় সড়ক সংকুচিত হয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র যানজট। একই সঙ্গে সড়কে সৃষ্টি হওয়া অসংখ্য খানাখন্দের কারণে সামান্য বৃষ্টিতে কাদা-পানি আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় নাকাল হচ্ছেন যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
টাঙ্গাইল-দেলদুয়ার-লাউহাটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাওয়ালিপাড়া বাজারে যানজট নিরসনে ২০২৩ সালের শেষ দিকে এ উড়ালসড়কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। শুরুর দিকে কাজের গতি প্রশংসনীয় থাকলেও গত কয়েক মাস ধরে তা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজের কারণে মূল সড়কটি সরু হয়ে পড়েছে। খানাখন্দের মধ্য দিয়ে ধীরগতিতে গাড়ি চলাচল করছে। ফলে প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সড়কটিতে নিয়মিত চলাচল করেন ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নের বাস্তা নয়াচর গ্রামের বাসিন্দা তুহিন নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই পয়েন্টে এত বেশি যানজট হয় যে মাঝেমাঝে এই জট থেকে বের হতেই এক থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
কাওয়ালিপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী রনি আহমেদ বলেন, রাস্তা ও উড়ালসড়কের নির্মাণ কাজ ধীরগতির জন্য বাজারের অবস্থা খুবই খারাপ। এই বেহাল অবস্থার জন্য আশেপাশের লোকজন বাজারে কম আসে। যার জন্য আমাদের ব্যবসা খারাপ যাচ্ছে। ঠিকমতো মাসিক দোকান ভাড়াও আয় করতে পারি না। আমরা চাই, দ্রুত কাজটি শেষ করা হোক। তাহলে এই যানজটের দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাব।
মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণাধীন উড়ালসড়কটির মূল কাঠামোর কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এর অ্যাপ্রোচ সড়ক ও সার্ভিস সড়ক নির্মাণে দেরি হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী শাহরিয়ার আলম বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ঢাকার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ শেষ করে জায়গাগুলো বুঝে পাওয়া গেলে অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। এরপর পুরো ফ্লাইওভার বা ওভারপাসটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া যাবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত জমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসন করে উড়ালসড়কটি চালুর উদ্যোগ নেবে কর্তৃপক্ষ। যাতে কাওয়ালিপাড়া বাজারের দীর্ঘদিনের যানজট ও যাতায়াত কষ্টের অবসান ঘটে।





