নান্দাইলে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি বয়ে যাওয়া ভয়াবহ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার অনেক মানুষের জীবন। ঈদের আনন্দ যখন ঘরের দুয়ারে, ঠিক তখনই আকস্মিক এই দুর্যোগে বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
আজ তিনি উপজেলার খারুয়ার হাটশিরা এলাকা সশরীরে পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। আকস্মিক দুর্যোগে ভেঙে পড়া মানুষের মনে সাহস জোগানোর পাশাপাশি তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা হিসেবে তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ, ঢেউটিন ও শুকনা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্বস্ত করে প্রতিমন্ত্রী বললেন, 'মানুষের যেকোনো দুর্যোগ ও বিপদে সরকার সবসময় পাশে আছে। ঝড়-বন্যা কিংবা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। পরিবারগুলো যেন দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।'
একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
এলাকার মানুষের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানালেন, 'ঈদের সময়টা শুধু আনন্দের উৎসব নয়, এটি মানুষের পাশে থাকারও সময়। এলাকার মানুষের কথা শুনতে, তাদের খোঁজ নিতে এবং সরাসরি সমস্যাগুলো জানতেই আমি মানুষের কাছে ছুটে এসেছি।'
এ সময় তিনি এলাকার উন্নয়ন, জনসেবা এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে স্থানীয় একটি কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। সেখানে তিনি হাটে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। পশুর দাম, বেচাকেনার পরিস্থিতি, হাটের সামগ্রিক পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও মানুষের কোনো ভোগান্তি হচ্ছে কিনা—সেসব বিষয়ে খোঁজখবর নেন তিনি। হাটে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং ঈদের দিন কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ঈদের এই ব্যস্ত সময়ে ঘরের মানুষকে পাশে পেয়ে উচ্ছ্বসিত নান্দাইলের সাধারণ মানুষ। স্থানীয়রা জানান, ঈদের মৌসুমে জনপ্রতিনিধিকে এভাবে নিজেদের মাঝে সরাসরি বসে কথা বলতে দেখে তারা ভীষণ আনন্দিত। এর ফলে তারা কোনো মাধ্যম ছাড়াই নিজেদের সমস্যার কথা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন।






