রাজশাহীতে ২৩৭ শিক্ষার্থীর প্রাথমিকের বৃত্তির ফল উধাও, তদন্তে অধিদপ্তর

রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে প্রাথমিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মানববন্ধন— সংগৃহীত
২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরও রাজশাহীর একটি কেন্দ্রের ২৩৭ শিক্ষার্থীর ফলাফল না আসায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ঘটনাটি নিয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত শেষ করে ফলাফল প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজশাহী বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা। পরে তারা বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেন। মানববন্ধনে রাজশাহীর ১২টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশ নেন।
এতে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ড. আজিবর রহমান, রাজশাহী স্বার্থরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলসহ অনেকে। এসময় বক্তারা বলেছেন, বৃত্তি পরীক্ষার ফল অনেক আগে প্রকাশিত হলেও রাজশাহীর একটি কেন্দ্রের ১২টি বিদ্যালয়ের ২৩৭ শিক্ষার্থীর কোনো ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় গত ১৬ জুলাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এর এক সপ্তাহ পার হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শুধু আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করছেন।
তারা জানান, আমরা আশ্বাস চাই না, ফলাফল চাই। দ্রুত তদন্ত শেষ করে আমাদের সন্তানদের বৃত্তির ফল প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে এই অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
জানা গেছে, রাজশাহী নগরীর উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাতটি ওয়ার্ডের ১২টি বিদ্যালয়ের মোট ২৩৭ শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু প্রকাশিত ফলাফলে ওই কেন্দ্রের রোল নম্বর ১০৪৯৫২৭ থেকে ১০৪৯৭৬৪-এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থীর নামও নেই। এতে ফল প্রকাশ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা। এদিকে রাজশাহীর পাশাপাশি ঢাকা ও হবিগঞ্জের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ না হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তে নেমেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
রাজশাহীর সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বললেন, ‘রাজশাহীর একটি কেন্দ্র, হবিগঞ্জের একটি উপজেলা এবং ঢাকার কয়েকটি বিদ্যালয়ের ফল প্রকাশ না হওয়ার ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা সবাই ঢাকায় কর্মরত কর্মকর্তা। তারা ইতোমধ্যেই তদন্ত কাজ শুরু করেছেন।’
তিনি জানালেন, চলতি মাসের ২০ বা ২১ জুলাই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজশাহীর উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ফলাফল না প্রকাশের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি অধিদপ্তরকে জানানো হয়। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





