ভৈরবে ডেঙ্গুতে একদিনে দুইজনের মৃত্যু, এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে মারা গেছেন দুইজন। বুধবার ঢাকা ও ময়মনসিংহের দুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। একই এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে দুইজনের মৃত্যুতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন- শহরের ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা জি এম ইস্পাহানি মিয়ার ছেলে জীদনি সায়হাম (৩৫) এবং একই এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ বানু (৬৫)।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তিন দিন আগে জীদনি সায়হাম ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। পরে তার রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার রাতে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে বুধবার ভোরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর সৈয়দ বানুকে প্রথমে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
একই এলাকায় অল্প সময়ের ব্যবধানে দুজনের মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে ক্ষুব্ধ হয়ে ভৈরব বাজার থেকে বাসস্ট্যান্ড সড়কের আইস কোম্পানি মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এলাকায় মশার উপদ্রব বাড়লেও মশক নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। তারা নিয়মিত মশক নিধন অভিযান পরিচালনা, ওষুধ ছিটানো এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
সড়ক অবরোধের কারণে উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেন।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশিদ বলেন, ‘এই রকম দুইটা মৃত্যুর ঘটনা সত্যিই খুবই দুঃখজনক। তবে, ডেঙ্গু নিয়ে আমাদের সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’






