উখিয়া
পরিচয় গোপন করেও রক্ষা পেল না খুনি, ৮ দিন পর গ্রেপ্তার

ছবি: আগামীর সময়
কক্সবাজার শহরের আবাসিক হোটেলের শৌচাগারে নারীকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আলোচিত সেই যুবক ইরফানকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের আট দিন পর আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উখিয়ার মধুছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ইরফান কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প-৪-এর বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত লেদু হোসেন এবং মায়ের নাম জরিনা খাতুন।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্ট’র ৩০২ নম্বর কক্ষের শৌচাগার থেকে কুলছুমা আক্তার (২৫) নামে এক নারীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করে, ছুরি দিয়ে জবাই করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পরদিন ১ অক্টোবর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের মা ছায়েরা খাতুন। মামলায় ইরফানকে একমাত্র আসামি করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার দিন ইরফান তার কথিত স্ত্রী কুলছুমাকে নিয়ে ওই হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। হোটেলের নিবন্ধন খাতায় নিজের পরিচয় গোপন করে তিনি ‘আরফান’ নামে কক্ষটি ভাড়া নেন। তাদের সঙ্গে কুলছুমার আড়াই বছর বয়সী শিশুসন্তানও ছিল।
হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে কুলছুমা ও ইরফান বাইরে বেরিয়ে যান। বিকেল ৩টার দিকে তারা আবার হোটেলে ফেরেন। পরে রাতে কক্ষের শৌচাগারে কুলছুমার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। হত্যার পর ইরফান কৌশলে হোটেল থেকে পালিয়ে যান। তবে শিশুটি কক্ষেই ছিল। পরে তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কক্সবাজার সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামীম বলেছেন, ‘আরফান’ নামেই ওই ব্যক্তি হোটেলের কক্ষ বুকিং করেছিলেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
তিনি জানান, কুলছুমা ঈদগাঁও উপজেলার বাসিন্দা। স্বামী মো. হারুণের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর একটি মামলা চলছিল। ওই মামলায় হাজিরা দেওয়ার কথা থাকায় তিনি ঈদগাঁও থেকে কক্সবাজার শহরে এসেছিলেন। তবে হোটেলে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তি তাঁর স্বামী হারুণ ছিলেন না।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী আগে জানিয়েছিলেন, কুলছুমার সঙ্গে হোটেল কক্ষে থাকা যুবকের পরিচয় তার পরিবারের সদস্যরাও জানতেন না। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল। ঘটনার পর হোটেলের দুই কর্মচারীকেও হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ওসির তথ্য মতে, ইরফানকে গ্রেপ্তারে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসছিল। পরে গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) যৌথ অভিযানে উখিয়ার মধুছড়া ক্যাম্প থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী নিশ্চিত করেছেন, ইরফানকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



