ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল হত্যা, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবি: আগামীর সময়
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার আড়াই বছর পর মামলার মূল আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন আদালতে স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে দিয়েছেন জবানবন্দি।
রবিবার (১৭ মে) বিকালে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।
গ্রেপ্তাররা হলেন শান্ত হোসেন (২৭), আহাদ আলী (২৩), রুবেল (৩২), আশিক (২৩), জুম্মন (২৩) ও জাহিদ হাসান শুভ (২৫)। তাদের আলীগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গত ১৩ মে ভোরে ফতুল্লা থানার আলীগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে মামলার মূল আসামি শান্ত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আটক করা হয় অন্য পাঁচজনকে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর রাতে আতিকুল ইসলাম তার পরিচিত আলী সম্রাটের কাছ থেকে ধার দেওয়া ৫০ হাজার টাকা ফেরত আনতে আলীগঞ্জ রেললাইন এলাকায় যান। আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা আসামিরা তার কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেটে, বুকে ও ঘাড়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে হাজি সাহাবুদ্দিনের মাছের খামারের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার দুদিন পর, ১১ নভেম্বর সকালে স্থানীয়রা পুকুরে ভাসমান মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের চাচা জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা করেন।
পিবিআইয়ের ভাষ্য, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে শান্ত হোসেন ও আহাদ আলী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারাও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে দিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ উল্লেখ করেন, তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান।




