রামুতে বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা, বিএনপি নেতাসহ ১৮ জনের নামে মামলা

সংগৃহীত ছবি
কক্সবাজারের রামুতে সংরক্ষিত বনভূমিতে উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক বিএনপি নেতাসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে করা হয়েছে মামলা। মামলায় অজ্ঞাতপরিচায় আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার রামু থানায় মামলাটি করেন পানেরছড়া বিট কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ মিঠাছড়ির সমিতিপাড়া এলাকার সংরক্ষিত বনভূমির একটি অংশ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে দখল করে পানের বরজসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে আসছিল। বন বিভাগ একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান চালালেও অভিযুক্তদের প্রভাব ও হুমকির কারণে পুরো এলাকা দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এজাহার অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৯টার দিকে পানেরছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরীফুল আলমের নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল দক্ষিণ মিঠাছড়ির সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধভাবে নির্মাণাধীন একটি পানের বরজ উচ্ছেদ করে। অভিযান শেষে নিয়মিত টহলের উদ্দেশ্যে পানেরছড়া বিটে ফেরার পথে নবী হোসেনের ঘোনা এলাকার পাশে জসীমের প্রজেক্টসংলগ্ন পায়ে চলা পথে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে হামলাকারীরা ধারালো দা, কিরিচ, লোহার রড, লাঠিসোঁটা, কোদাল ও বেলচা নিয়ে বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা সরকারি কাজে বাধা দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এলোপাতাড়ি মারধর করে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, জসিম উদ্দিন ধারালো দা দিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরীফুল আলমের মাথায় কোপ দেন। পরে নাজির হোসেন নাজুও একই কর্মকর্তার মাথায় দা দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শাহাব উদ্দিন লোহার রড দিয়ে বন প্রহরী মো. হুমায়ন কবিরকে আঘাত করলে তার ডান হাতের কনুইয়ের নিচের হাড় ভেঙে যায়। এছাড়া আব্দুল্লাহ ধারালো কিরিচ দিয়ে বাগান মালী শাহেদুল ইসলামের মাথায় কোপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় বাদী গোলাম মোস্তফাসহ বন বিভাগের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাগান মালী মো. সাজিদ, ইআরটি সদস্য মিজানুর রহমান, বন প্রহরী রাইসুল হাসান টিপু, বাগান মালী উজ্জ্বল বড়ুয়া এবং শাহেদুল ইসলাম চৌধুরী।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাকারীরা সংরক্ষিত বনভূমিতে বন বিভাগের সৃজিত বাগানের গাছ কেটে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করে। পরে সেই গাছের ডাল দিয়েই বন কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগের আগে বনভূমিতে দায়িত্ব পালন করতে গেলে হত্যার হুমকি দেয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর আহত রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরীফুল আলম, বন প্রহরী মো. হুমায়ন কবির এবং বাগান মালী শাহেদুল ইসলাম হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
মামলায় আসামি করা হয়েছে বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন, শাহাব উদ্দিন, আব্দুল্লাহ, জয়নাল, নাজির হোসেন নাজু, আবু তাহের, মো. রাসেল, ওবাইদুল হক, মিজানুর রহমান (সোনা মিয়া), আবছার, আতিক উল্লাহ, হবিব আহাম্মদ, মীর আহাম্মদ, মোহাম্মদ নূর, আমির হোসেন, এনাম মিয়া ও ইসমাইলকে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের সবার বাড়ি দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের সমিতিপাড়া এলাকায়।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, বন বিভাগের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নথি করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





