ধামরাইয়ে এসআইকে ঘুষের অভিযোগ, পাল্টা মিথ্যা অপবাদের দাবি তদন্ত কর্মকর্তার

ঢাকার ধামরাইয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী রেজাউল হক দাবি করেছেন, প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েই একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ তুলেছে।
অভিযোগকারী মনির হোসেনের বাবা চান মিয়া দাবি করেন, মামলার ধারা হালকা করে দেওয়ার কথা বলে এসআই কাজী রেজাউল হক ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। তার ভাষ্য, ঘুষ দেওয়ার বিষয়টি কাউকে না বলতে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল।
তবে এসআই কাজী রেজাউল হক অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মনির হোসেনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছিল। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পরই তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এ অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, ডেভিল হান্ট অপারেশনের সময় মনির হোসেন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং ওই অভিযানে তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে কারণেও তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে এ অভিযোগ তোলা হয়ে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, ধামরাই উপজেলার সূয়াপুর ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং অবৈধ মাটি ব্যবসার সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ।
সূয়াপুর ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ দাবি করেন, মনির অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তার ভাষ্য, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত মনির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।







