এক যুগ ধরে জলাবদ্ধ ঈদগাহ ও খেলার মাঠ

ছবি: আগামীর সময়
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর দুর্গাপুর এলাকার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও খেলার মাঠটি এক যুগ ধরে জলাবদ্ধ। বছরের ৮ থেকে ৯ মাসই পানিতে ডুবে থাকে মাঠটি। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে খেলাধুলা, ঈদের জামাতসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। একসময় যে মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনের আসর বসত, এখন সেখানে জন্মেছে দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতার আগাছা, কচুরিপানা ও জলজ ঘাস।
উপজেলা পরিষদের অদূরে প্রায় ৭৮ শতাংশ জমির ওপর মাঠটি অবস্থিত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, একসময় এখানে নিয়মিত ঈদের জামাত, খেলাধুলা, জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও গ্রামীণ মেলা হতো। এখন দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কার্যত পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে মাঠটি।
মাঠটির একপাশে রিয়াজুল জান্নাহ জামে মসজিদ, দুর্গাপুর আদর্শ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়। অন্যপাশে আবুল হোসেন তরুণ অডিটরিয়াম, কুমারখালী আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ, ফুলকুঁড়ি আইডিয়াল স্কুল ও নির্মাণাধীন উপজেলা মডেল মসজিদ। কাছেই উপজেলা পরিষদ চত্বর ও ইউএনওর সরকারি বাসভবন। গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থাপনার পাশে থাকা মাঠটির এমন দশায় ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঠে দীর্ঘদিন মাটি ভরাট না হওয়া এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় স্থায়ী রূপ নিয়েছে জলাবদ্ধতা। পৌর এলাকায় অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ ও ড্রেনেজব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে মাঠে জমে থাকে বৃষ্টির পানি। বর্তমানে মাঠের বিভিন্ন অংশ ও ঈদগাহের নামাজের স্থানও পানিতে তলিয়ে যায়।
দুর্গাপুরের বাসিন্দা মাহাবুবুর রহমান রাজু বলেছেন, ‘বৃষ্টি হলেই মাঠে পানি জমে ঈদগাহে নামাজ পড়া যায় না। মাঠটি মাত্র এক ফুট উঁচু করা গেলে জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকটাই কমে আসত।’
কলেজছাত্র সোয়াইব হাসান আলভী বলেছেন, ‘বছরের ৮-৯ মাস মাঠ পানির নিচে থাকে। আমরা বহুবার উপজেলা কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েছি। দ্রুত মাঠ ভরাট করে খেলাধুলার উপযোগী করা দরকার।’
স্থানীয় খেলোয়াড় শিমুল পারভেজ অরূপ বললেন, ‘প্রশাসন অনেকবার আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে কষ্ট করে বছরে অল্প সময় খেলা যায়।’
স্থানীয় কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস বললেন, ‘এই মাঠে একসময় বড় বড় টুর্নামেন্ট হতো। এখন মাঠের অবস্থা দেখে সেই দিনগুলো শুধু স্মৃতি।’
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বললেন, ‘বর্ষায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে। এর আগে কিছু কাজ করা হলেও তা টেকসই হয়নি। নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া গেলে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করে মাঠটির স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, শুধু মাঠে মাটি ভরাট নয়, জলাবদ্ধতার মূল কারণ চিহ্নিত করে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে ঈদগাহ ও খেলার মাঠটির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।







