দিনাজপুর
পুরনো বইয়ের ভাঁজে জীবিকার গল্প

ছবি: আগামীর সময়
ফুটপাতের ধারেই টেবিল জুড়ে সারি সারি সাজানো বই, যার সবই পুরনো। বই মলিন, পুরনো হলেও এর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে অনেকের জীবিকা। তেমনি একজন সুমন ঘোষ (৪৫)। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পুরনো বই বিক্রি করে সংসার চলছে তার।
তবে দিনের পরিক্রমায় মলিন মলাটের মতো তার কপালেও পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। আগের তুলনায় কমেছে বই বিক্রি কিন্তু বেড়েছে সবকিছুর দাম। তাই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে।
সুমন ঘোষ দিনাজপুর জেলা জজ কোর্টের সামনের ফুটপাতের ধারে বই বিক্রি করেন। তার মতো সেখানে অস্থায়ী দোকান রয়েছে ৩০-৩৫টি। যার সব কটিতেই মেলে পুরনো বই।
এসব দোকানে বিভিন্ন শ্রেণির পাঠ্য বই, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও চাকরি প্রস্তুতির বই পাওয়া যায়। অল্প দামেই মেলে এসব বই। তবুও আগের তুলনায় কমেছে ক্রেতা। এর কারণে এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা সংকটের মুখে পড়েছেন।
বই ব্যবসায়ী সুমন ঘোষ আগামীর সময়কে জানান, আমার কাছে বিভিন্ন শ্রেণির বোর্ড বই, গাইডসহ চাকরির প্রস্তুতির বই আছে। আগে পুরনো বইয়ের কদর ছিল, এখন তা নেই। ঘনঘন সিলেবাস পরিবর্তন, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় বই ও পিডিএফপ্রাপ্তি পুরনো বই ব্যবসায় সংকট সৃষ্টি করেছে। ফলে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে৷
তবুও এ ব্যবসার সঙ্গে কেন আছেন জানতে চাইলে সুমন ঘোষের ভাষ্য, বইয়ের সঙ্গে একধরনের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। তাই সংকটের মধ্যেও ধরে আছি৷
তার সঙ্গে কথার ফাঁকেই আমিনুল ইসলাম নামের এক অভিভাবক পুরনো গাইড বই কিনতে এসেছেন। তিনি অনেকক্ষণ খুঁজে কয়েকটি বই অল্প দামে কিনলেন। তিনি জানালেন, এখন বাচ্চারা পুরনো বই পড়তে চায় না। কিন্তু নতুন বই কেনার সাধ্য না থাকায় পুরনো বই কিনলাম। সিলেবাসের সঙ্গে মিল থাকায় বইগুলো বেশ উপকারে আসবে।
একাধিক বই বিক্রেতা জানালেন, এখন বই বিক্রি খুবই সীমিত। আগে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড় লেগেই থাকত। বিক্রি কমে যাওয়ায় এখন অনেকেই এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যাচ্ছেন৷ এর মধ্যেও মলিন বইয়ের ভাঁজে আমরা স্বপ্ন দেখি।







