বাঁচানো গেল না রুয়েট শিক্ষার্থী রাফিদকে

রাফিদ শাহরিয়ার
পাঁচদিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হার মানলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থী রাফিদ শাহরিয়ার। আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে রাজশাহীর বিনোদপুর বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন রাফিদ।
রাফিদ রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। তার শিক্ষার্থী আইডি- ২১০৩০৯৫। বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল হঠাৎ ইউটার্ন নিলে রাফিদ ছিটকে পড়েন। এ সময় তার মাথা সড়কের ডিভাইডারে সজোরে আঘাত করে। দুর্ঘটনার পর সহপাঠী ও স্থানীয় লোকজন তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকরা জানান, আঘাতে তার মস্তিষ্কে গুরুতর ক্ষতি ও রক্তক্ষরণ হয়েছিল। একপর্যায়ে তিনি গভীর কোমায় চলে যান।
পরদিন রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকারসহ একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে গিয়ে তার চিকিৎসার খোঁজ নেন। চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। রুয়েট প্রশাসনের উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসক জানান, রাফিদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে গুরুতর আঘাত এবং বাম অংশে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। নিউরোসার্জনরা মস্তিষ্কে ব্যাপক ক্ষতির কথা জানান। ক্ষতিগ্রস্ত অংশের কোষগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসার সম্ভাবনাও ছিল না বলে পরিবারকে জানানো হয়।
রাফিদের চিকিৎসার জন্য রুয়েট প্রশাসন, সহপাঠী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। চিকিৎসায় সাড়া দিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে ফিরবেন, এমন প্রত্যাশা ছিল সবার। তবে পাঁচ দিনের চিকিৎসার পর রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর খবরে রুয়েট ক্যাম্পাসে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।




