দলবদ্ধ ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী, প্রধান আসামি বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় ১৬ বছরের এক কিশোরীকে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম ভূঞা বকুল সহ চারজনকে নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে কেন্দুয়া থানায় মামলা করেছেন। রাতেই পুলিশ আবু মিয়া (৩৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে, আজ বুধবার রাতে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দলের সহ সাধারণ সম্পাদক ও ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম ভূঞা বকুলকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার কারণে দলীয় প্রাথমিক পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছেন।
কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে কেন্দুয়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় তার এক আত্মীয় তাকে যৌন নির্যাতন করেন এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখেন। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে দৈহিক সম্পর্ক করাতে বাধ্য করা হতো। এতে কয়েকজন সহযোগী জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করেছে কিশোরী।
সম্প্রতি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যেতে কিশোরী অস্বীকৃতি জানালে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কিশোরী এবং তার বাবাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। বর্তমানে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হলেও সন্তানের পিতৃত্বের দায় কেউ স্বীকার করছেন না বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
কেন্দুয়া থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে আবু মিয়া নামে এক আসামিকে কেন্দুয়া পৌরসভার সাউদপাড়া থেকে গতকাল রাত ৩টার দিকে আটক করেছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর নিরাপত্তা এবং গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা এবং তার পরিচয় গোপন রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, কেন্দুয়া পৌরসভার সাউদপাড়া থেকে দায়ের করা মামলায় গতকাল রাত ৩টার দিকে আবু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আজ বিকেলের দিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদেরকে গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।






