ঘরে বসেই মিলবে ভবনের নকশা অনুমোদন: সিউক চেয়ারম্যান

ছবি: আগামীর সময়
ঘরে বসেই ভবনের নকশা অনুমোদনের আবেদনসহ সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) বিভিন্ন সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে সিলেটে চালু হচ্ছে ইলেকট্রনিক নির্মাণ অনুমোদন ব্যবস্থা (ইসিপিএস)। এর মাধ্যমে নাগরিকেরা অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পাশাপাশি আবেদনের অগ্রগতিও জানতে পারবেন। প্রবাসীদের জন্য থাকছে বিশেষ ‘প্রবাসী এক্সপ্রেস সার্ভিস’। এ ব্যবস্থায় এক মাসের মধ্যে নকশা অনুমোদনসহ অন্যান্য সেবা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সিউক।
আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) সিলেটে প্রথমবারের মতো সিউকের উদ্যোগে পালিত হবে বিশ্ব বসতি দিবস। জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর অক্টোবরের প্রথম সোমবার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য—‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’।
সিউক সূত্রে জানা গেছে, ৫ ও ৬ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী বিশ্ব বসতি দিবসের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। রিকাবীবাজার স্টেডিয়ামসংলগ্ন মোহাম্মদ আলী জিমনেশিয়ামে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম দিন বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার পর দুপুর ১টায় ইসিপিএসের উদ্বোধন করা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের।
সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেছেন, ‘সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যাত্রার শুরু থেকেই নাগরিক সেবা সহজ করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ইসিপিএস তারই একটি বাস্তব প্রতিফলন। এর মাধ্যমে সেবাপ্রার্থীরা ঘরে বসেই আবেদন জমা দিতে পারবেন এবং আবেদনের অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারবেন।’
তিনি বলেছেন, প্রবাসীদের দ্রুত সেবা দিতে ইসিপিএসের সঙ্গে ‘প্রবাসী এক্সপ্রেস সার্ভিস’ যুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে প্রবাসীদের নকশা অনুমোদনসহ অন্যান্য সেবা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
সিউক জানিয়েছে, এর আগে সিলেটে বিশ্ব বসতি দিবসের আয়োজন সিলেট গণপূর্ত বিভাগের উদ্যোগে হলেও এবারই প্রথম সিউক দিবসটি আয়োজন করছে। বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে দুই দিনের কর্মসূচি সাজানো হয়েছে।
বিশ্ব বসতি দিবসের এবারের আয়োজনে আবাসন খাতের বিভিন্ন অংশীজনকেও যুক্ত করা হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও লিডিং ইউনিভার্সিটির পুরকৌশল ও স্থাপত্য বিভাগ, ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স, ইন্সটিটিউট অব আর্কিটেক্টস, ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপ এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড আর্কিটেকচারাল কনসালটেন্সি ফার্মসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নিচ্ছে।
দুই দিনের আয়োজনে শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী। এর মধ্যে রয়েছে আবাসন ও নগরায়ণ বিষয়ে ভাবনা প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন, বিভিন্ন মডেল ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী। সিউক জানিয়েছে, ইতিমধ্যে নগরায়ণসংক্রান্ত ৩০টির বেশি ভাবনা জমা পড়েছে।
৬ অক্টোবর দ্বিতীয় দিনে পরিবেশ সুরক্ষায় আম্বরখানা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ব্লু বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। পরে টেকসই নগরায়ণ ও আবাসন বিষয়ে বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হবে। একই দিন প্রতিযোগিতাগুলোর চূড়ান্ত মূল্যায়ন শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনের আয়োজন শেষ হবে।
সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেছেন, সিলেটকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পর্যটনবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিউক কাজ করছে। পরিকল্পিত নগরায়ণে তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করার পাশাপাশি আবাসন খাতের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেছেন, সুপরিকল্পিত সিলেট গড়ে তুলতে তরুণ শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের চিন্তা ও পরিকল্পনা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্ব বসতি দিবসের কর্মসূচির মাধ্যমে নগরায়ণ ও আবাসন বিষয়ে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।




