ভিডিওকাণ্ডে এমপি গাজী নজরুলকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

এমপি গাজী নজরুলকে শ্যামনগরে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ। ছবি: আগামীর সময়
ভিডিও বিতর্ককে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ করেছেন শ্যামনগরের বাসিন্দারা।
আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে শ্যামনগর সদর এলাকায় বিক্ষোভ থেকে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার দাবিও জানান বিক্ষোভকারীরা।
‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজের’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীরা এমপি গাজী নজরুল ইসলামের পোস্টার ও ছবিতে জুতা নিক্ষেপ করেন এবং সেগুলোতে আগুন দেন। একই সঙ্গে তার কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়। অনেকের হাতে ছিল তার ছবি ও প্রতীকী ঝাড়ু।
সমাবেশে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ইউনিয়নের বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
জাতীয় মহিলা সংস্থার শ্যামনগর উপজেলা সভাপতি ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নূরজাহান পারভীন ঝর্না জানিয়েছেন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম আমজাদ জানিয়েছেন, জনগণ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় ভোট দিলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে তারা হতাশ হয়েছে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি গাজী নজরুল ইসলামকে সংসদ সদস্য পদ থেকে অপসারণের আহ্বান জানান।
নাগরিক নেতা ও সাবেক ডাকসু নেতা অধ্যাপক আবু সাইদ জানিয়েছেন, একজন জনপ্রতিনিধির প্রতি মানুষের যে আস্থা ছিল, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তা নষ্ট করেছে। তিনি ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
নাগরিক নেতা আশেক-ই এলাহি মুন্না বলেছেন, প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হয়েছিল। পরে একাধিক ভিডিও প্রকাশের পর সেই দাবি আর সামনে আসেনি।
এরপর গাজী নজরুল ইসলাম নিজেই ফেসবুকে এক বিবৃতিতে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে উল্লেখ করেন। পরে আরও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে স্থানীয়দের হাতে তাকে আটক অবস্থায় দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
আশেক-ই এলাহি মুন্না আরও জানান, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং শ্যামনগরের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক সোলায়মান কবীর, গাবুরার চেয়ারম্যান জি.এম মাসুদুল আলম, যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলুসহ অন্যরা।
সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, গত ১৭ জুন রাজধানীর মগবাজারে পারিবারিকভাবে এবং প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের সম্মতিতে তিনি মরিয়ম খাতুনকে বিয়ে করেছেন। পরে তার প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুর আলাদা ভিডিও বার্তায় ওই বিয়ের বিষয়টি সমর্থন করেন।





