১০ মেগাওয়াট ঘাটতিতে মনোহরগঞ্জে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

প্রতীকী ছবি
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় তীব্র লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে উপজেলা সদরসহ মান্দারগাঁও, বাইশগাঁও ও হাসনাবাদ বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৪ ঘণ্টার অর্ধেকের বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ থাকছে না। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ। কখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলেও ভোল্টেজ এত কম থাকে যে ফ্যান, ফ্রিজ, রাইস কুকার ও সেচ পাম্পের মতো প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। সামান্য কালবৈশাখী বা বৃষ্টি হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।
এদিকে, বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। উপজেলা সদর ও হাসনাবাদ বাজারের শপিংমল, করাতকল (স-মিল) ও চালকলের পাশাপাশি মান্দারগাঁও ও বাইশগাঁও বাজারের বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ও আইপিএস ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। রাতের দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির কারণে স্থানীয় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর চিকিৎসাসেবাও হচ্ছে না।
অন্যদিকে লো-ভোল্টেজের কারণে সময়মতো সেচ দিতে পারছেন না কৃষক। এতে শঙ্কা তৈরি হয়েছে কৃষি উৎপাদন নিয়েও।
নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না পাওয়ায় স্থানীয় গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।
এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪-এর মনোহরগঞ্জ জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. এ কে এম আজাদ বলেছেন, ‘মনোহরগঞ্জ উপজেলাবাসীর জন্য বর্তমানে দৈনিক ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু আমরা জাতীয় গ্রিড থেকে পাচ্ছি মাত্র ১৫ মেগাওয়াট। বাকি ১০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ না থাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’
জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দ না বাড়লে এই সংকট দ্রুত সমাধান করা কঠিন হবে বলেও জানান তিনি।




