কুলাউড়া
হাতের টানে উঠে আসছে সড়কের কার্পেটিং!

হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসছে সড়কের কার্পেটিং। ছবি : আগামীর সময়
সদ্য শেষ হয়েছে সড়কের কাজ। অথচ দেখলে মনে হয় অনেক পুরাতন রাস্তা। তার ওপর কোনো একটি অংশে হাত দিয়ে টান দিলেই সহজে তুলে নেওয়া যাচ্ছে ঢালাই। এমনটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নের পাঁচপীর বৈঠাং জালাই সড়কের পাকাকরণ কাজে।
স্থানীয়রা অনিয়মের অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এরই পাশাপাশি উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয় স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সড়কের কাজ পরিদর্শন করেন এবং অনিয়মের সত্যতা পান।
এলজিইডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় কুলাউড়ার জয়চণ্ডী ইউনিয়নের পাঁচপীর বেঠাং জালাই সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণে ৯৮ লাখ ৩৫ হাজার ৯৫১ টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। ৯৩ লাখ ৪৪ হাজার ১৫৩ টাকা চুক্তিতে কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার দেলোয়ার হোসেনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কনকর্ড এন্টারপ্রাইজ। ২০২৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর কাজটি প্রথমে শুরু হয়। কাজ শেষ হবার সময়সীমা ছিল ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়াতে কয়েক দফা সময় বৃদ্ধি করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বললেন, জয়চণ্ডী ইউনিয়নের পাঁচপীর জালাই, বৈঠাং জালাই, গোগালি ছড়া ও মেরিনা চা-বাগানের লোকজন পাঁচপীর বৈঠাং জালাই সড়ক ব্যবহার করে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। এ ছাড়া জুড়ী উপজেলার কয়েকটি এলাকার লোকজন ফাঁড়ি রাস্তা হিসেবে এই সোড়কটি ব্যবহার করেন। এই সড়কে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার জায়গা এখনো কাঁচা রয়েছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম পাঁচপীর বৈঠাং জালাই এলাকায় এক কিলোমিটার সড়ক পাঁকাকরণ হচ্ছে। কিন্তু নিম্নমানের ইটের খোঁয়া ও বালু ব্যবহার করার পাশাপাশি বৃষ্টির সময় সড়কের কার্পেটিং কাজ করছেন। বর্তমানে সেই কার্পেটিং ধরে টান দিলেই অবলীলায় তা উঠে আসছে।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেন বললেন, যথাযথ নিয়মে রাস্তাটির পাকাকরণ কাজ হয়েছে। তারপরও কাজে যদি কোনো ত্রুটি দেখা দেয় সেটা আমরা ঠিক করে দেব।
উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয়ের ভাষ্য, এলাকাবাসীর অভিযোগে রাস্তাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। চলমান কাজে যেসকল ত্রুটি পাওয়া গেছে সেটি সংশোধন করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ আমাদের কাছে বুঝিয়ে দেবে। কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন না করলে কাজের অবশিষ্ট বিল আটকিয়ে রাখা হবে।





