পানি নামার বদলে নতুন এলাকা প্লাবিত, দুর্ভোগে ঝিনাইগাতীর মানুষ

ছবি: আগামীর সময়
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির উজানে কিছুটা উন্নতি হলেও ভাটির দিকে পানি নেমে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল।
এতে কুনাগাঁও, দরিকালীনগর, সারিকালীনগর, দক্ষিণ দাড়িয়ার পাড়, লংকেশ্বর, চতল, বালিয়াচন্ডি, রাঙামাটিয়া, বাতিয়াগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকার বহু পরিবার হয়ে পড়েছে পানিবন্দি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছু এলাকায় পানি নামতে শুরু করলেও এখনও অসংখ্য পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, রান্নার অসুবিধা এবং শুকনো খাবারের ওপর নির্ভরতা বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা। গবাদিপশুর জন্য খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ঘাস, খড় ও গো-খাদ্য পানিতে তলিয়ে বা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গরু-ছাগল নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
ধলী বিলের পার্শ্ববর্তী এলাকায় মানুষ নৌকা ও কলাগাছের ভেলা ব্যবহার করে চলাচল করছেন। খাল-বিল ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে স্থানীয়রা জানান।
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন বলেছেন, নিম্নাঞ্চলে মাঠে এখন কোনো ফসল না থাকায় কৃষিতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। তবে মাছের ঘের থেকে মাছ বেরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমিন বললেন, ভাটির পানি দ্রুত নামতে শুরু করেছে। ভারী বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি আরও উন্নতির দিকে যাবে। ইউপি চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা দ্রুত প্রস্তুত করে জমা দিতে।
এদিকে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লুৎফর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, পানিবন্দি কোনো পরিবার অসহায় বা খাদ্য সংকটে আছে, এমন খবর পেলেই দলের একজন দায়িত্বশীল হিসেবে আমি তাদের পাশে দাঁড়াবো।
সারিকালীনগর এলাকার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা ও সাংবাদিক শান্ত শিফাত বললেন, “নদী-খাল এখন আর তার স্বাভাবিক অবস্থানে নেই। ধলী-বাইলা বিলের খাল বন্যার সাথে আসা বালু ও মাটির প্রলেপে ভরাট হয়ে চর এলাকায় পরিণত হয়েছে। বিল বলতে এখন আর প্রকৃত অর্থে কিছু অবশিষ্ট নেই।
তিনি আরও বললেন, খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয় এবং ফসল ডুবে নষ্ট হয়। সবচেয়ে বড় সংকট এখন গবাদিপশুর খাদ্য। খড়, ঘাস ও গো-খাদ্য পানিতে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষক ও খামারিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত খাল-বিল খনন না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।


