সিলেটে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু

সিলেটের একটি হাসপাতালের চিত্র। ছবি: আগামীর সময়
সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৭১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এ সময়ে নতুন কোনো ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি।
মারা যাওয়া শিশুটির নাম আরমান (২)। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার গোপালপুর এলাকায়। সে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।
আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নূরে আলম শামীম।
স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ৫৮০ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১৯৬ জন, হবিগঞ্জে ৬১ জন (যার মধ্যে দুজন রুবেলা রোগী), মৌলভীবাজারে ২৭ জন এবং সুনামগঞ্জে ২৯৬ জন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো ল্যাব-নিশ্চিত রোগী পাওয়া যায়নি।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৭১ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৮ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন, হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঁচজন ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২৪৮ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭৯ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯১ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে তিনজন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে আটজন, লায়ন্স হাসপাতালে তিনজন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩০ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দুজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৬ জন চিকিৎসাধীন।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক ও ল্যাব-নিশ্চিত হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ৩৬ জন, হবিগঞ্জে ১১ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং সুনামগঞ্জে ৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১০৪ জন সন্দেহজনক হামে এবং চারজন ল্যাব-নিশ্চিত হামে মারা গেছেন।
হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।






