আর কত বর্ষায় ‘অবরুদ্ধ’ থাকবে মালোপাড়া
- সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মালোপাড়া গ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা

সদরপুরের কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মালোপাড়া গ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মালোপাড়া গ্রামে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকছে বৃষ্টির পানি। এতে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। দুর্ভোগের পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্যও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় বাড়ির উঠান। ঘর থেকে বের হয়ে রাস্তায় যেতে হয় হাঁটুপানি মাড়িয়ে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। অনেক বাড়ির আঙিনা, রান্নাঘর এমনকি বসতঘরের চারপাশও পানিতে ডুবে থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
মালোপাড়ার বাসিন্দা বিধান মালো (২৭) বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পানি পচে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। অনেক জায়গা ভাগাড়ের মতো পরিবেশে পরিণত হয়েছে। নোংরা দুর্গন্ধ পানিতে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ডায়রিয়া,
চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে। এ ছাড়া স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও বয়স্কদের প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
আরেক বাসিন্দা তরুণ কুমার মৃধা (৪০) বলেছেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ এবং খাল-নালা সংস্কারের দাবি জানালেন তিনি।
কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান তিতাস বলছেন, মালোপাড়া গ্রামের জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই এলাকাবাসী দুর্ভোগে পড়েন। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেছেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেনেজ প্রকল্পের প্রস্তাব এরই মধ্যে ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে চলতি অর্থবছরেই বাস্তবায়নের আশা করা হচ্ছে।




