বাহুবল
স্বর্ণপদক জিতেও অনিশ্চিত ‘ডেমন ৭১’-এর তুরস্কযাত্রা

ছবি: আগামীর সময়
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেও আর্থিক সংকটে বারবার থমকে যাচ্ছে হবিগঞ্জের বাহুবলের তরুণ উদ্ভাবকদের স্বপ্ন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ‘আটলান্টিয়া আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত অলিম্পিয়াড ২০২৬’-এর বাংলাদেশ পর্বে স্বর্ণপদক জিতে আন্তর্জাতিক পর্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছে আলিফ সোবহান চৌধুরী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের দল ‘ডেমন ৭১’।
আগামী ১৪ থেকে ১৯ জানুয়ারি ২০২৭ তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়ায় এখনো নিশ্চিত হয়নি তাদের তুরস্কযাত্রা।
গত ৬ নভেম্বর সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ পর্বে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগীদের সঙ্গে অংশ নেয় দলটি। তাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের রোবোটিকস রোভার ‘ফ্যান্টম-এক্স: কৌশলগত প্রতিরক্ষা যান’ প্রকল্প নিয়ে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিভাগের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শ্রেণিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে স্বর্ণপদক অর্জন করে তারা।
দলটির সদস্যরা হলেন তারেক আহমেদ তানভীর, তারিকুর রহমান ও সৈয়দ মেহেদী হাসান। দলের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিনজাব ছাহাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দানবীর ড. সৈয়দ রাগীব আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন এবং সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাসুদ রানা। প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে জেনারেল সায়েন্স অলিম্পিয়াড।
এবারের সাফল্যেও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই দলটির সদস্যরা। কারণ, এর আগেও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেও অর্থাভাবে সেই সুযোগ হারাতে হয়েছে তাদের। ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত অষ্টম বিশ্ব উদ্ভাবন প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনীর বাংলাদেশ জাতীয় পর্বে স্বর্ণপদক অর্জন করে ‘ডেমন ৭১’। মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও আর্থিক সহযোগিতা না থাকায় শেষ পর্যন্ত সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
এবারও একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন তারা। জাতীয় পর্যায়ে মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও শুধু অর্থের অভাবে সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুধু একটি প্রতিযোগিতায় নয়, বিভিন্ন পর্যায়ে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে দলটি। ‘ফিবোনাচ্চি আন্তর্জাতিক রোবট ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি অলিম্পিয়াড ২০২৬’-এর জাতীয় পর্বে চূড়ান্ত প্রতিযোগী হওয়ার পাশাপাশি ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২৬-এর জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে তারা। এ ছাড়া জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জনের কৃতিত্বও রয়েছে দলটির।
দলটির সদস্যদের প্রত্যাশা, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হলে তুরস্কের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের উদ্ভাবন তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে তারা।
মেধা ও যোগ্যতার স্বীকৃতি মিললেও শুধু অর্থের অভাবে যেন এবারও থেমে না যায় বাহুবলের এই তরুণ উদ্ভাবকদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের তুলে ধরার স্বপ্ন। এখন প্রয়োজন সহযোগিতার হাত।



